দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন সমস্যার সমাধানে মুন্সিগঞ্জ পৌরসভায় শুরু হয়েছে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সংস্কারকাজ। পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় পুরোনো ও অকার্যকর ড্রেনের পরিবর্তে নতুন ও আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলমান এই উন্নয়নকাজ শেষ হলে পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের পানি নিষ্কাশনজনিত ভোগান্তি কতটা কমবে, এখন সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
পৌরবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাঘাট ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পানি জমে যায়। অনেক স্থানে ড্রেনের ভেতরে বালু, পলিথিন, ময়লা-আবর্জনাসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য জমে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশিত না হয়ে দীর্ঘ সময় রাস্তায় জমে থাকে। এতে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়, অন্যদিকে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পুরোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থার অন্যতম বড় সমস্যা ছিল নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব। কোথাও ড্রেন বালু ও ময়লায় ভরাট হয়ে গেছে, আবার কোথাও পানি চলাচলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। বর্ষা মৌসুমে এ সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করে।
তবে দীর্ঘদিনের এই সমস্যা নিরসনে এবার বড় ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে মুন্সিগঞ্জ পৌরসভা। প্রকল্পের আওতায় রাস্তা, ড্রেনেজসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজ করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে পুরোনো ড্রেনের পরিবর্তে নতুন ও অপেক্ষাকৃত প্রশস্ত ড্রেন নির্মাণের কাজও এগিয়ে চলছে। মুন্সিগঞ্জ লঞ্চঘাট এলাকা থেকে ড্রেনেজ সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
পৌর প্রশাসক মৌসুমী মাহবুব বলেন, চলমান উন্নয়নকাজের মাধ্যমে পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে পৌরবাসী একটি আধুনিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পাবে এবং দীর্ঘদিনের পানি নিষ্কাশন সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। পৌরবাসীর ভোগান্তি কমাতে কাজটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার আশ্বাসও দেন তিনি।
তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু ড্রেন প্রশস্ত বা আধুনিক করলেই জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হবে না। পানি কোন দিক দিয়ে এবং কীভাবে দ্রুত নিষ্কাশিত হবে, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ড্রেনের সঠিক ঢাল, উচ্চতা ও গভীরতা নির্ধারণ করা জরুরি। পাশাপাশি নির্মাণকাজে মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পরিকল্পিতভাবে পুরো ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক তৈরি করা গেলে তবেই এই প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনেজ সমস্যার কারণে বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে থাকে। এতে মানুষের চলাচলে অনেক কষ্ট হয়, পাশাপাশি রাস্তারও ক্ষতি হয়। নতুন ড্রেন নির্মাণের কাজ দ্রুত ও সঠিকভাবে শেষ হলে আমাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।”
আরেক পৌর নাগরিক বলেন, “বৃষ্টির সময় রাস্তায় পানি জমে থাকায় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ হয়। আমরা চাই, পৌরসভা দ্রুত কাজ শেষ করে কার্যকর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করুক।”
এখন পৌরবাসীর প্রত্যাশা, চলমান ড্রেনেজ উন্নয়নকাজ যেন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। সঠিক পরিকল্পনা, মানসম্মত নির্মাণ ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে যদি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে