
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার শেখরনগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নিয়মবহির্ভূতভাবে বহিরাগতদের মাধ্যমে সেবা প্রত্যাশীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের তীর ওই অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) মো. শরীফ হোসেনের দিকে।
সরকার নির্ধারিত জনবল কাঠামো অনুযায়ী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব), ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা (সহকারী তহশিলদার) এবং অফিস সহায়ক/চৌকিদার থাকার কথা। তবে অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত জনবলের বাইরে শেখরনগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আরও তিনজনকে নিয়মবহির্ভূতভাবে কাজের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই তিনজনের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল ও অন্তর এবং মুন্সিগঞ্জ থেকে আসা আপন রয়েছেন। সোহেল ও অন্তর ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নিতে আসা মানুষের কাছ থেকে সরকারি নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। আর আপনকে অফিসে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ করানো হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি জনবল কাঠামোর বাইরে এসব ব্যক্তিকে কোন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে অফিসে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের মাধ্যমে সেবা প্রত্যাশীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় হয়ে থাকলে এর দায়ভার কার, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
সেবা নিতে আসা কয়েকজনের অভিযোগ, ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজের জন্য নির্ধারিত সরকারি ফি’র পাশাপাশি এসব ব্যক্তিকে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়। এতে সাধারণ মানুষ হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি তাদের।
অভিযোগের বিষয়ে শেখরনগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) মো. শরীফ হোসেন বলেন, “আগের থেকেই এনারা ছিল। এদের সপ্তাহে ২ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। এমন প্রতি অফিসেই রয়েছে, শুধু আমার অফিসে না।”
এ বিষয়ে সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা ঘোষ বলেন, “বিষয়টি আপনার মাধ্যমে অবগত হলাম। তদন্ত সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তবে অভিযোগে উল্লিখিত অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সাব-এডিট/সাইদ হাসান আফরান