
স্টাফ রিপোর্টার
সিরাজদিখান উপজেলার লতব্দী ইউনিয়ন আওয়ামী তাঁতী লীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম জহিরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার দিবাগত রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জহিরুল ইসলাম জহির সিরাজদিখান উপজেলার রামকৃষ্ণদী গ্রামের মৃত ইবনে সাউদ লক্ষণের ছেলে।
পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার ৫২ নম্বর এজাহার নামীয় আসামি জহিরুল ইসলাম জহিরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে মর্মে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, জহিরুল ইসলাম জহির দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের দলীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক তিন ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করা সিন্ডিকেটের অন্যতম মূল হোতা। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধারায় একাধিক মামলা রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালায় পুলিশ। তবে জহির গা ঢাকা দিয়ে থাকায় তাকে গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হয় পুলিশ। জহির রাতের অন্ধকারে এলাকার তিন ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছে এমন খবরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকবার অভিযান চালানো হয়। তবে তার নাগাল না পেয়ে মাটি কাটার যন্ত্র ভেকু বিনষ্ট করা হয় এবং জহিরের বেশ কয়েকজন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ।
রামকৃষ্ণদী গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবক জানান, জহির এলাকায় যুবকদের বিভিন্ন নেশাদ্রব্যে আসক্ত করে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতেন। তার নির্দেশে বিগত বছরগুলোতে এলাকায় একাধিক ঝগড়া বিবাদ হয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগের সময়ে লতব্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে পরাজিত হন।
উল্লেখ্য, কংশপুরা গ্রামে গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে মাটি কাটা ও স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জহির গ্রুপ ও তার প্রতিপক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে সিরাজদিখান থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গেলে এসআই হাফিজুর রহমান আহত হন। পরে এ ঘটনায় সিরাজদিখান থানার এসআই রাকিব বাদী হয়ে ৯২ জনকে এজাহার নামীয় আসামি এবং অজ্ঞাত ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হান্নান জানান, পুলিশের ওপর হামলা মামলায় জহিরুল ইসলাম জহিরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। যার এজাহার নম্বর ৫২, শনিবার সন্ধ্যায় তাকে কোর্টে চালান করা হয়।