
মুন্সিগঞ্জে রাসায়নিক উপ-ধাতু পরিমান ৮৩%
বর্ষন মোহাম্মদ:
খাবার পানিতে আর্সেনিকের মাত্রাতিরিক্ত হার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক। আর্সেনিক মূলত একপ্রকার রাসায়নিক উপাদান। পানিতে স্বল্প মাত্রায় আর্সেনিক সব সময়ই থাকে। কিন্তু যখনই এই মাত্রা স্বাভাবিক অবস্থার থেকে বেশি হয়ে যায়, তখনই তা পানকারীর শরীরে নানা রকম রোগের উপসর্গ তৈরি করে এবং পরে সেসব রোগব্যাধিকে মারাত্মক পর্যায়ে নিয়ে যায়। স্বাস্থ্য সংস্থার মান অনুযায়ী এক লিটার পানিতে ১০ মাইক্রোগ্রাম আর্সেনিক থাকলে সেই পানি দূষিত।আর্সেনিক একটি বিষাক্ত খনিজ মৌলিক পদার্থ। এর কোনো স্বাদ বা গন্ধ নেই। অর্ধপরিবাহী ও সংকর ধাতু তৈরিতে আর্সেনিক ব্যবহৃত হয়। এটি মৌলিক পদার্থ হিসেবে থাকলে পানিতে দ্রবীভূত হয় না এবং বিষাক্তও হয় না। কিন্তু বাতাসে জারিত হয়ে অক্সাইড গঠন করলে এটি বিষাক্ত হয়ে ওঠে। মানুষের দেহে, মৃত্তিকায় ও সমুদ্রের পানিতে সামান্য পরিমাণ আর্সেনিক লক্ষ করা যায়। মাটির উপরিভাগের চেয়ে অভ্যন্তরে আর্সেনিক বেশি পরিমাণে পরিলক্ষিত হয়। মাটির নিচে পাথরের একটি স্তর আছে, যাতে পাইরাইটস নামে একটি যৌগ আছে। এই যৌগে আর্সেনিক বিদ্যমান। তবে সবচেয়ে বেশি আর্সেনিক দেখা যায় শিলাখণ্ডের ভূ-ত্বকে। আর্সেনিক সালফাইড, অক্সাইড ও আর্সেনাইড আর্সেনিকের প্রধান উৎস বলে বিবেচিত।
আর্সেনিক জরিপের পর কেটে গেছে ২২ বছর। ২০০৩ সালের পর জেলার নতুন কোনো নলকূপের পানি আর পরীক্ষা করা হয়নি। আর্সেনিক আছে কি নেই তা না জেনেই পান করতে হচ্ছে নলকূপের পানি। সরকারি বা বেসরকারিভাবে আর্সেনিক পরীক্ষার নতুন কোনো উদ্যোগও চোখে পড়েনি।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ সালে আর্সেনিক প্রকল্পের মাধ্যমে জেলার পাঁচটি উপজেলার শতভাগ নলকূপে আর্সেনিক পরীক্ষা করা হয়। তখন ওই সব নলকূপ লাল রং দিয়ে চিহ্নিত করা হয়, যাতে এগুলোর পানি কেউ ব্যবহার না করে। কিন্তু এখন আর কোথাও লাল রং নেই। ফলে নির্বিচারে আর্সেনিকযুক্ত নলকূপের পানি পান করছে মানুষ, যা থেকে ভবিষ্যতে আর্সেনিকের ভয়াবহ বিস্তার ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে নলকূপগুলিতে আর্সেনিকের মাত্রা এবং সহনসীমা অতিক্রমকারী নলকূপের বণ্টন বিন্যাস বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন রকম। কিছু অঞ্চলে শতভাগ নমুনাতেই এ সীমা অতিক্রম ধরা পড়েছে, আবার কোনো কোনো অঞ্চলে একেবারেই অতিক্রম করে নি। সর্বোচ্চ দূষণযুক্ত জেলাগুলি হচ্ছে চাঁদপুর (৯০%), মুন্সীগঞ্জ (৮৩%), গোপালগঞ্জ (৭৯%), মাদারীপুর (৬৯%), নোয়াখালী (৬৯%), সাতক্ষীরা (৬৭%), কুমিল্লা (৬৫%), ফরিদপুর (৬৫%), শরিয়তপুর (৬৫%), মেহেরপুর (৬০%) ও বাগেরহাট (৬০%)। সবচেয়ে কম দূষণযুক্ত জেলাগুলি হচ্ছে ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, নাটোর, লালমনিরহাট, পটুয়াখালী ও বরগুনা। এসব সমগ্র জেলার কোথাও ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের পরিমাণ সহনসীমা অতিক্রম কর নি। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অর্ধেক অংশই আর্সেনিক দূষণযুক্ত, কিন্তু উত্তর-পূর্বে সামান্য কয়েকটি দূষণের ঘটনা জানা গেছে। উত্তরাংশ হয় দূষণমুক্ত অথবা কদাচিৎ দূষণ ঘটেছে।
প্রায় সাড়ে ৮ বছর আগে ইঅগডঝচ প্রকল্পের আওতায় দেশের ২৭০টি উপজেলার প্রায় ৫০ লাখ নলকূপ পরীক্ষা করা হয়েছে যার মধ্যে ২৭% নলকূপে মান মাত্রার উপরে আর্সেনিক শনাক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর দেশের অন্যান্য এলাকা প্রায় ১৯০টি উপজেলায় জরিপ করেছে। বর্তমানে সারাদেশের আর্সেনিক দূষণ মানচিত্র তৈরি করা হয়েছে যাতে দেখা যায় যে দেশের দক্ষিণভাগে আর্সেনিকের উপস্থিতি অনেক বেশি। তবে গ্রাম, ইউনিয়ন ও উপজেলা ভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায় কোনো কোনো এলাকার শতভাগ নলকূপ আর্সেনিক দূষণ আক্রান্ত আবার কোনো কোনো এলাকায় শতভাগ দূষণমুক্ত।
বিকল্প পানি সরবরাহের জন্য বিভিন্ন আর্সেনিক আক্রান্ত এলাকায় বিভিন্ন ভাবে নিরাপদে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করছে। বর্তমানে প্রচলিত ব্যবস্থা সমূহ:গার্হস্থ্য পর্যায়ে আর্সেনিক প্রতিরোধ গার্হস্থ্য পর্যায়ে খাবার পানিকে আর্সেনিকমুক্ত করতে কয়েকটি ভিন্ন ভিন্ন কৌশল উদ্ভাবন করা হয়েছে। যেমন ক্ষুদ্রাকার আর্সেনিক পরিস্রাবক যন্ত্র বা ফিল্টার। অতি প্রচলিত উদ্ভাবনগুলি হচ্ছে: তিন কলস প্রক্রিয়া, সাফি ফিল্টার, এস.ও.ই.এস ফিল্টার, দু বালতি পদ্ধতি, নিষ্ক্রিয় অবক্ষেপ (চধংংরাব ংবফরসবহঃধঃরড়হ) ইত্যাদি। গার্হস্থ্য পর্যায়ে এ সব পদ্ধতির সাহায্যে খাবার পানি থেকে আর্সেনিক পরিশ্রুত করা হয়।অতি অগভীর নলকূপ ও পাতকুয়া দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে খুব কম গভীরতা বিশিষ্ট নলকূপ ও পাতকুয়াগুলি (১০ মিটারের কম গভীর) আর্সেনিক দূষণমুক্ত থাকতে দেখা গেছে এবং সে জন্যই অগভীর নলকূপ ও পাতকুয়াকে আর্সেনিকমুক্ত পানীয় জলের বিকল্প উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অবশ্য এ অগভীর ভূগর্ভস্থ জলে সাধারণত জীবাণুঘটিত দূষণ ও নাইট্রেটের পরিমাণ বেশি থাকে।পুকুর বালু ফিল্টার এ ধরনের ফিল্টারে পুকুরের পানি শোধন করা হয়। সংরক্ষিত একটি পুকুরের কাছে বালু ফিল্টার তৈরি করা হয় এবং এটি আর্সেনিক এবং জীবাণু উভয় প্রকারের দূষণ থেকে মুক্ত পানীয় জল প্রদানে সক্ষম। অবশ্য এটির রক্ষণাবেক্ষণ বেশ সমস্যাপূর্ণ।বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ বৃষ্টির পানিকেও আর্সেনিকমুক্ত পানির একটি উৎস হিসেবে ভাবা হচ্ছে, অন্তত বর্ষা মৌসুমে। বৃষ্টির পানি পানীয় জল হিসেবে বড় মাটির পাত্রে বা ফেরো-সিমেন্ট জালায় সংরক্ষণ করে রাখা যায়।গভীর ভূগর্ভস্থ জল অতিগভীর (১৫০ মি বা অধিক) নলকূপগুলির পানি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আর্সেনিকমুক্ত হতে দেখা গেছে, বিশেষ করে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায়। তাই গভীরতর ভূগর্ভস্থ জল আর্সেনিকমুক্ত পানীয় জলের একটি নির্ভরযোগ্য দীর্ঘমেয়াদি উৎস হিসেবে চিহ্নিত।বিশোধিত ভূ-পৃষ্ঠের জল ভূ-পৃষ্ঠের পানি স্বাভাবিক কারণেই প্রচুর পরিমাণে অণুজীবীয় দূষক সম্পৃক্ত থাকে। সুযোগ থাকলে ভূ-পৃষ্ঠের পানিকে শোধন করে পানীয় জল হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার মহাকালী ইউনিয়নের গ্রামের মহর আলী, মীর ইয়াকুব আলী, সাঈদ মিয়া, তাইজুদ্দিন, কালু মিয়া ও মো. সেলিম মিয়ার বাড়ির নলকূপে আর্সেনিক পাওয়ায় সেগুলোতে লাল রং করা হয়েছিল। সেলিম ও ইয়াকুব বলেন, তারা বাড়ির নলকূপ দুটি নিজ খরচে উঠিয়ে নতুন জায়গায় বসিয়েছেন। তবে সেগুলো পরে আর পরীক্ষা করা হয়নি। অন্যরা আগের মতোই আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্র জানা গেছে ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের দূষণ মানবজাতির জন্য কোনো নতুন স্বাস্থ্য সমস্যা নয়। তবে সমস্যাটি নতুন এবং দূষণের উচ্চমাত্রাও ব্যতিক্রম। ঘনবসতির হওয়ায় সমস্যাটি আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। এ সমস্যার নিরসন এবং এ বিরাট জনগোষ্ঠীর জন্য বিকল্প নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা করা দুষ্কর। কোনো অঞ্চলকে জরুরি ভিত্তিতে বিবেচনায় নিতে হবে এবং কোনো অঞ্চলকে বাদ দেওয়া যাবে সেটা আর্সেনিক দূষণ অঞ্চলের মানচিত্র থেকেই পরিষ্কার বোঝা যায়। আর্সেনিক নিরসনের বেশ কিছু বিকল্প পদ্ধতি উপরে বর্ণিত হয়েছে, যেমন ু গার্হস্থ্য ফিল্টার, কমিউনিটি ভিত্তিক আর্সেনিক বিশোধন প্লান্ট, গভীরতর নলকূপ স্থাপন, ভূ-পৃষ্ঠের পানি ব্যবহার ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ। সমগ্র দেশের জন্য কোনো একটি বিশেষ পদ্ধতি প্রয়োগযোগ্য নয়, বরং নিরাপদ পানীয় জলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য ভিন্ন ভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করা যেতে পারে। বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ সত্ত্বেও বাংলাদেশে আর্সেনিক সমস্যা একটি প্রধান জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বিদ্যমান। এখনও উল্লেখ্য সংখ্যক লোক আর্সেনিকের ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে।গবেষকদের মতে, আর্সেনিকযুক্ত পানি পান না করলে এই মৃত্যু কম হতো। আর্সেনিক পানরত ব্যক্তির আর্সেনিকের বিষক্রিয়ায় যকৃৎ, ত্বক, কিডনি, ফুসফুস ও হৃৎপিণ্ডের ক্যানসার হতে পারে। আর্সেনিকের কারণে এরই মধ্যে বিভিন্ন জনের হাত-পা প্রভৃতি অঙ্গে বিভিন্ন রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এমনকি রোগের প্রকোপ ঠেকাতে অনেকের হাত-পায়ের আঙুলও কেটে ফেলতে হচ্ছে।৩০ বছর আগেও অগভীর নলকূপের পানি বিশুদ্ধ ছিল, কিন্তু ক্রমেই তা আর্সেনিক দ্বারাআক্রান্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে আর্সেনিক বিষক্রিয়ার কোনো চিকিৎসা নেই। আর্সেনিক বিষক্রিয়া থেকে মুক্তির জন্য আপাতত প্রতিরোধক ব্যবস্থাই সবচেয়ে উপযোগী।
জানা যায়, আর্সেনিকের ভয়াবহতা উপেক্ষা করেই চলছে জেলাবাসীর জনজীবন। ঘনবসতিপূর্ণ এ জেলাবাসীর দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় পানির অধিকাংশ চাহিদাই পূরণ হচ্ছে নলকূপ থেকে। তবে পর্যাপ্ত নলকূপ থাকলেও এতে নেই আর্সেনিকযুক্ত বা মুক্ত সঙ্কেত।ভূগর্ভ বা গভীর-অগভীর নলকূপের মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠে উঠে আসে এই আর্সেনিক। আর্সেনিকে রয়েছে নীরব ঘাতক আর্সোনিকোসিস, যা চিকিৎসা শাস্ত্র নিশ্চিত করেছে। প্রতি লিটার পানিতে ৫০ মিলিগ্রাম বা এর বেশি পরিমাণ আর্সেনিক থাকলে তা খাওয়ার অনুপযোগী হিসেবে এ শাস্ত্রে বিবেচিত হয়।
২০১০ সালে ল্যানসেট সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রবন্ধ থেকে জানা যায়, আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করলে মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়। পানিতে কী পরিমাণ আর্সেনিক আছে এবং একজন ব্যক্তি কত দিন ধরে এই পানি পান করছেন, তার ওপর মৃত্যুঝুঁকিনির্ভর করে। আর্সেনিকের বিষক্রিয়া মৃত্যুর প্রধান কারণ না হলেও তা মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। প্রতিদিনের মোট আর্সেনিক গ্রহণ ও প্রস্রাবে আর্সেনিকের পরিমাণের মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে। পানিতে আর্সেনিক বেশি থাকলে মৃত্যুঝুঁকিও বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, আর্সেনিকযুক্ত পানি পানের কারণে সাধারণ রোগে গড়ে মৃত্যুঝুঁকি ২১ শতাংশ এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগে মৃত্যুঝুঁকি ২৪ শতাংশ বেড়েছে।
আর্সেনিক দূষণ প্রতিরোধ এবং প্রতিকারের জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা যেতে পারে
১. গভীর নলকূপের পানি খাবার এবং রান্নার কাজে ব্যবহার করতে হবে। ২. বৃষ্টির পানিতে আর্সেনিক থাকে না। তাই বৃষ্টির পানি জমিয়ে রেখে ব্যবহার করতে হবে। ৩. পুকুর এবং খাল-বিলের পানিতে আর্সেনিক থাকে না। এ ক্ষেত্রে পুকুরে, খাল বা বিলের পানি ছেঁকে ২০ মিনিট ফুটিয়ে পান করা যেতে পারে। ৪. আর্সেনিক আক্রান্ত গ্রামে নতুন নতুন জলাশয় বা পুকুর খনন করে পানির ব্যবস্থা করা। ৫. সরকারি সহায়তার মাধ্যমে আর্সেনিক বিশোধন প্লান্ট স্থাপন করা। ৬. বালতি, কলসি এবং যৌথ প্রচেষ্টায় উদ্ভাবিত ফ্লাই অ্যাশ দিয়ে ফিল্টারের মাধ্যমে পানি বিশুদ্ধ করা। ৭. আর্সেনিকযুক্ত নলকূপগুলো লাল রং দিয়ে চিহ্নিত করে সেগুলো থেকে পানি পান বন্ধ করা। ৮. কাছে আর্সেনিকমুক্ত নলকূপ পাওয়া না গেলে পুকুর বা নদী থেকে ১ কলসি পানিতে আধা চামচ ফিটকিরি মিশিয়ে ২-৩ ঘণ্টা রেখে দিয়ে পরে ওপর থেকে তলাবিহীন পরিষ্কার পানি পান করা।
আর্সেনিক কোনো সংক্রামক বা ছোঁয়াছে রোগ নয়। তাই আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের কাছে পরামর্শ নিতে হবে। জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক এবং গ্রামপর্যায়ে আর্সেনিক থেকে মুক্ত থাকার পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা বৃদ্ধি করতে হবে। খাবার পানির মাধ্যমে আর্সেনিক মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। তাই আর্সেনিকমুক্ত বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। যক্ষ্মা, কলেরা, বসন্ত ইত্যাদি রোগের মতো এ রোগকেও নির্মূল করার পদক্ষেপ নিতে হবে। জনগণকে সচেতন হতে হবে এবং আর্সেনিক আক্রান্ত এলাকায় সরকারকে নিরাপদ বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে।
জেলাবাসীর অভিযোগ, মানুষের সুস্থতা আর নিরাপদ বসবাস নিয়ে সরকারি বা বেসরকারি কোনো সংস্থার নেই মাথাব্যথা। ২০০৩ সালের পর জেলার নতুন কোনো নলকূপের পানি পরীক্ষা করা হয়নি। আর্সেনিক আছে বা নেই তা না জেনেই পান করতে হচ্ছে যেকোনো নলকূপের পানি। সরকারি বা বেসরকারিভাবে আর্সেনিক পরীক্ষায় নতুন কোনো উদ্যোগও চোখে পড়েনি। এছাড়া সেসময় যেসব নলকূপে লাল রং দিয়ে ব্যবহারে নিষিদ্ধ করা হয় সেগুলোর আর কোথাও লাল রং চোখে পড়ে না। ফলে আর্সেনিকযুক্ত নলকূপের পানি পান করে ভবিষ্যতে আর্সেনিকের ভয়াবহ বিস্তার লাভ করবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
বর্তমানে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে, নতুন নলকূপ স্থাপনের সময় অবশ্যই নলকূপের পানি পরীক্ষা করে নিতে হবে। অনেকেই পরীক্ষা করে নিচ্ছে। এই জেলার মানুষের সুপেয় পানি নিশ্চিত করার জন্য এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ ল্যাব প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করছে সুশিল সমাজ ।
এদিকে, নলকূপের পানি পরীক্ষার যে সুযোগ রয়েছে সেটা জানেনা অনেকেই। প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষ না জেনেই পান করছে আর্সেনিকযুক্ত পানি। সরকারের পক্ষ থেকে নলকূপের পানির আর্সেনিক পরীক্ষার পদক্ষেপ গ্রহণ করে বিশুদ্ধ পানি পানের সুযোগ দেয়ার দাবি স্থানীয় সাধারণ মানুষের।