
মুন্সিগঞ্জ-১
মোরসালিন রহমান
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে যেমন রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে, তেমনি মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলাতেও জমে উঠেছে নির্বাচনি আমেজ। নির্বাচনকে সামনে রেখে নানা মন্তব্য, আলোচনা ও বিশ্লেষণে মুখর হয়ে উঠেছে জনপদ।
মুন্সিগঞ্জু১ (সিরাজদিখান ও শ্রীনগর) আসনে এবারের নির্বাচনে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন তিনজন প্রার্থী। বিএনপি থেকে মনোনীত প্রার্থী শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি মনোনীত প্রার্থী এ কে এম ফখরুদ্দিন রাজি এবং বিএনপি থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী আলহাজ্ব মোমিন আলি। এই তিন প্রার্থীর রাজনৈতিক অবস্থান, সাংগঠনিক শক্তি ও জনভিত্তি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চলছে নানামুখী বিশ্লেষণ।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শেখ মোঃ আব্দুল্লাহ দলীয় পরিচয়ের কারণে একটি সুসংগঠিত ভোটব্যাংকের সুবিধা পেতে পারেন। দীর্ঘদিনের দলীয় সম্পৃক্ততা ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সমর্থন তার পক্ষে কাজ করতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীর উপস্থিতি বিএনপির ভোট বিভক্ত করতে পারে—এ নিয়েও রয়েছে নানা আলোচনা।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি মনোনীত প্রার্থী এ কে এম ফখরুদ্দিন রাজি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকায় তার একটি স্থায়ী সমর্থকগোষ্ঠী রয়েছে বলে দাবি করছেন সমর্থকরা। বিশেষ করে সংগঠিত ভোট ও কর্মীভিত্তিক প্রচারণা তাকে শক্ত অবস্থানে রাখতে পারে বলে মত দিচ্ছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
এদিকে বিএনপি থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী আলহাজ্ব মোমিন আলিকে ঘিরেও আলোচনা কম নয়। স্থানীয়ভাবে তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, সামাজিক যোগাযোগ ও পূর্বের রাজনৈতিক ভূমিকার কারণে তিনি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, তিনি মূলত বিএনপির অভ্যন্তরীণ ভোট সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারেন।
চায়ের দোকান, বাজার ও রাজনৈতিক আড্ডায় এখন একটাই প্রশ্ন—শেষ পর্যন্ত ভোটের ফলাফল কোন দিকে যাবে। কেউ বলছেন দলীয় প্রতীকই মুখ্য, আবার কেউ বলছেন ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও মাঠপর্যায়ের কাজই নির্ধারণ করবে জয়-পরাজয়। জোট রাজনীতি, ভোটার উপস্থিতি ও শেষ মুহূর্তের প্রচারণাও বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত দিচ্ছেন সচেতন মহল।
সব মিলিয়ে মুন্সিগঞ্জ-১ আসনে এবারের নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনা দুটোই চরমে। কে হবেন আগামী সাংসদ এবং কোন দল সরকার গঠনের পথে এগিয়ে যাবে—তা জানতে এখন নির্বাচনের দিনের দিকেই তাকিয়ে আছে পুরো সিরাজদিখানসহ মুন্সিগঞ্জবাসী।