
ইঞ্জি. মো. শাহিদুল হাসান শাওন
সিরাজদিখান যেমন তাঁকে নিয়ে গর্ব করে, তেমনি গোটা মুন্সীগঞ্জ তাঁকে নিজেদের প্রেরণার প্রতীক মনে করে। তিনি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জমির হোসেন—বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের এক নিবেদিতপ্রাণ সাধক, গবেষক ও সৃজনশীল ব্যক্তিত্ব; ঝিকুট ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা হিসেবে যাঁর উপস্থিতি সংগঠনটিকে দিয়েছে বুদ্ধিবৃত্তিক দৃঢ়তা ও দিকনির্দেশনা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করা এই বরেণ্য শিক্ষক ৫০তম সমাবর্তনে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল গভীর ও প্রাঞ্জল—এমফিল অভিসন্দর্ভ “রবীন্দ্র নাটকে ঐতিহ্য চেতনা ও সমাজ ভাবনা” এবং পিএইচডি অভিসন্দর্ভ “রবীন্দ্র নাটকে রাজনীতি ও সংস্কৃতি”। বাংলাদেশে তিনিই প্রথম বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাট্যকর্মের ওপর গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন—যা তাঁকে বাংলা সাহিত্য গবেষণায় স্বতন্ত্র মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে।
কেবল গবেষণাই নয়, সৃজনশীলতার প্রতিটি শাখায় তাঁর সমান বিচরণ। তিনি একাধারে লেখক, প্রাবন্ধিক, কবি, গীতিকার ও সংগঠক। তাঁর রচনাভান্ডার বিস্ময়করভাবে সমৃদ্ধ। রবীন্দ্রবিষয়ক গবেষণা গ্রন্থ ১৫টি, প্রবন্ধ ও গবেষণা গ্রন্থ ৫টি, উপন্যাস ৫টি, কাব্যগ্রন্থ ৩টি, শিশুতোষ ছড়া ও গল্পগ্রন্থ ১২টি, প্রায় ২৫টি ছোটগল্প এবং সম্পাদিত গ্রন্থ ২৫টি—সব মিলিয়ে তিনি ৫০টিরও অধিক গ্রন্থের প্রণেতা। পাশাপাশি প্রায় তিন হাজার গানের রচয়িতা হিসেবে তিনি বাংলা সংগীতাঙ্গনেও এক অনন্য নাম।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে জলের চাঁদ, মেঘ বৃষ্টি রোদ, সাহিত্য সহচর, সাহিত্য কথা, রবীন্দ্রনাথের কাব্য পরিচয়, ছিটে ফোটা, চাঁদের বুড়ি, খেকশিয়ালের বিয়ে এবং ছোটগল্প সংকলন বিশ্বসেরা দশটি গল্প। উপন্যাস জলের চাঁদ ও কাব্যগ্রন্থ মেঘ বৃষ্টি রোদ তাঁকে পাঠকমহলে বিশেষভাবে পরিচিতি দিয়েছে
শিক্ষকতা তাঁর আরেকটি শক্তিশালী পরিচয়। বর্তমানে তিনি নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশে অধ্যাপনা করছেন। শ্রেণিকক্ষের পাঠদান থেকে শুরু করে গবেষণাগার—সব জায়গায় তিনি শিক্ষার্থীদের মাঝে চিন্তার গভীরতা ও সাহিত্যপ্রেম জাগিয়ে তুলছেন।
প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগেও তিনি সমানভাবে সক্রিয়। খাসমহল বালুচর তরুণ ক্লাব, যুব কল্যাণ সমিতি, লাইসিয়াম ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পাঠাগার এবং রবীন্দ্র গবেষণা পরিষদসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তিনি। সমাজ ও সংস্কৃতি বিকাশে এসব প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা আজও গুরুত্বপূর্ণ।
অধ্যাপক ড. জমির হোসেন কেবল একজন ব্যক্তি নন; তিনি একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের নাম। তাঁর গবেষণা, সৃজনশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্ব বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে এবং আগামী দিনেও করবে—এমন প্রত্যাশা সাহিত্যপ্রেমীদের। ঝিকুট ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা হিসেবে তাঁর সম্পৃক্ততা সংগঠনটির কার্যক্রমে যুক্ত করেছে প্রজ্ঞার গভীরতা ও চিন্তার শুদ্ধতা।
বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির এই নিবেদিত প্রাণ মানুষটির দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি। তাঁর কলম আরও বহু দিন ধরে আলোকিত করুক আমাদের সাহিত্যভুবন।