
চাষের হার বাড়ে, বিপরীতে দাম কমে
ত্বাইরান আবির
মুন্সিগঞ্জ জেলা দেশের অন্যতম প্রধান আলু উৎপাদন কেন্দ্র। এবারও এখানে আলুর আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে, কিন্তু কৃষকেরা লাভের আশায় রয়েছেন এবং একইসাথে বাজার ও পরিপক্ব অবকাঠামোর অভাবে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন।
মুন্সিগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই মৌসুমে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৪,৬৫৫ হেক্টর, কিন্তু বাস্তবে ৩৪,৬৬০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ হয়েছে। উপজেলা ভেদে, সদর, টঙ্গীবাড়ী, সিরাজদিখান, লৌহজং ও গজারিয়াসহ জেলায় আলুর চাষ সমানভাবে বিস্তৃত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এবং বীজ ও সার সরবরাহের দাম স্থিতিশীল থাকায় কৃষকরা মাঠে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে ফসলের বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে দৃষ্টিগোচর হচ্ছে।
এ বছর আলুর বীজ ও সার মূল্যের স্থিতিশীলতার কারণে অনেক ছোট ও মাঝারি কৃষকও আলু আবাদে আগ্রহী। বীজ ও সার খরচ কম হওয়ায় উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে বলে তারা মনে করছেন।
ফসলের বৃদ্ধির এই পর্যায়ে এখন কৃষকরা মাঠে সেচ, আগাছা নিয়ন্ত্রণ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। যদি কোন বড় ধরণের প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটে, কৃষি কর্মকর্তারা ধারণা করছেন ব্যাপক ফলন পাওয়া সম্ভব।
যদিও আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে, পরবর্তী ধাপে বাজারজাতকরণ ও দাম নিয়ন্ত্রণে বড় সঙ্কট রয়েছে। বিগত বছরগুলোতে মুন্সিগঞ্জের অনেক কৃষক দাম কমে যাওয়ার কারণে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একাধিক রিপোর্টে দেখা গেছে, বাজারে আলুর দাম বিপরীতভাবে হ্রাস পেয়েছিল, যেখানে উৎপাদন ও ভেন্টিলেশন খরচ প্রায় ২৭ টাকা/কেজি হলেও বিক্রয় মূল্য ছিল মাত্র ১১-২০ টাকা/কেজি পর্যায়ে। ফলে অনেক কৃষক তাদের মূলধনও ফেরত পায়নি।
এছাড়া মুন্সিগঞ্জে এই বিপুল পরিমাণ আলুর জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার থাকার অভাব রয়েছে, যার ফলে কৃষকরা অনেক উৎপাদিত আলু সংরক্ষণে ব্যর্থ হচ্ছে এবং প্রচলিত বিক্রয়ের সময় পর্যন্ত সুবিধাজনক রাস্তা পাচ্ছে না।
এমন অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে অনেক কৃষক ও কৃষি বিশ্লেষক দাবি করেন রাষ্ট্র যদি পণ্যটির বাজার মূল্য স্থিতিশীল রাখে, পাশাপাশি রফতানি ও সরকারি সহায়তা বৃদ্ধি করে সে ক্ষেত্রে কৃষকদের লাভ ও স্থিতিশীলতা মিলবে। অনেক মুক্ত বাজার বিশ্লেষণেও আলুর বাজার সংগঠন ও সঠিক তথ্য নির্ধারণে চাহিদা ব্যপকভাবে উঠেছে।
সর্বোপরি, আলুর আবাদ এবার সফলভাবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল ও বীজ-সারের মূল্য স্থিতিশীল হওয়ায় কৃষকদের কাছে এটা ইতিবাচক শঙ্কা। কিন্তু পরবর্তী বাজার ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার দুর্বলতা কৃষকদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। গত মৌসুমে উৎপাদন খরচ ও বিক্রয়ের দাম ধরে রাখতে না পারায় অনেক কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন।
মুন্সিগঞ্জে আলু চাষে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত খুলেছে, আবাদ লক্ষ্য ছাড়িয়ে উন্নত ফসল সম্ভাব্য। তবে আগামীতে বাজার সমর্থন, স্টোরেজ অবকাঠামো ও মূল্য-নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যদি যথাযথ নীতি গ্রহণ না করা হয়, তাহলে কৃষকেরা আবারও ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন।