
আহবায়ক দেশের বাহিরে-সদস্য সচিবসহ একদিনের ব্যাবধানে বহিষ্কার ১১ ও পদত্যাগ ৫
আবু নাসের লিমন
মুন্সিগঞ্জ বিএনপিতে নেতৃত্ব সংকটের আশংকা করছেন স্হানীয় নেতৃবৃন্দ। একদিনর ব্যাবধানে বহিষ্কার ১১ ও পদত্যাগ ৫। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও হয়েছেন বহিষ্কার আহবায়ক চিকিৎসার জন্য অবস্থান করছেন দেশের বাহিরে। এতে করে নির্বাচনে এক ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পরতে পারে বলে আশংকা করছেন সাধরন তৃনমূলের কর্মীগন।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মুন্সিগঞ্জের রাজনীতির মাঠ। তবে ভোটের লড়াইয়ের চেয়েও এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে জেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংকট।
মুন্সিগঞ্জের তিনটি আসনের মধ্যে দুইটি আসনে স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় এক দিনের ব্যবধানে ১১ নেতাকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি।
এর মধ্যেই জেলা কমিটির আহবায়ক মিজানুর রহমান সিনহা অসুস্থ হয়ে বিদেশে চিকিৎসাধীন এবং সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিন বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র) নির্বাচন করায় দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়াতে নেতৃত্ব সংকটে অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে এই মুহুর্তে জেলা বিএনপি।
সবশেষ গতকাল বুধবার বিকেলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগে ৩ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কৃত নেতারা হলেন— জেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সদস্য সচিব ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিনের ভাই আব্দুল মতিন (সাধারণ সম্পাদক, পঞ্চসার ইউনিয়ন বিএনপি), নাসির উদ্দিন ভূঁইয়া (সভাপতি, মহাকালি ইউনিয়ন বিএনপি) এবং শফিকুল ইসলাম শওকত (সভাপতি, রামপাল ইউনিয়ন বিএনপি)। পাশাপাশি মহাকালী ও রামপাল ইউনিয়ন বিএনপির দুটি কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এ নিয়ে এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ৬ বিএনপি নেতাকে বহিষ্কার করা হলো।
অন্যদিকে, মুন্সিগঞ্জ-১ আসনেও একই অভিযোগে ৮ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে বহিষ্কৃত হওয়া এই নেতাদের মধ্যে রয়েছেন— জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. দেলোয়ার হোসেন, তাজুল ইসলাম, আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল, জসিম মোল্লা এবং জেলা মহিলা দলের সভাপতি সেলিনা আক্তার বীণা। এছাড়াও সিরাজদীখান উপজেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন ভূঁইয়া, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন আহম্মেদ ও আবু তাহেরকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
দলের এই গণ-বহিষ্কারের প্রতিবাদে এবং বর্তমান পরিস্থিতির প্রতি সংহতি জানিয়ে গতকাল রাতে জেলা বিএনপির ৫ জন শীর্ষ নেতা পৃথক সময়ে পদত্যাগ করেছেন। তারা হলেন, জেলা কমিটির সদস্য- আতোয়ার হোসেন বাবুল, সাহাদাত সরকার, কাজী আবু সুফিয়ান বিপ্লব, মাহাবুব আলম স্বপন এবং মাহাবুবুর রহমান খান।
নেতাকর্মীদের মতে, ৫৯ সদস্যবিশিষ্ট জেলা আহ্বায়ক কমিটির অবস্থা এখন খুবই শোচনীয়। কমিটির সদস্য সচিবসহ এ পর্যন্ত ৯ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে, কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা চিকিৎসার জন্য দীর্ঘদিন ধরে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন। গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে শীর্ষ নেতাদের বহিষ্কার ও পদত্যাগের ফলে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো কার্যত ভেঙে পড়েছে বলে মনে করছেন তৃণমূলের কর্মীরা।
উল্লেখ্য, মুন্সিগঞ্জ-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন আলহাজ্ব মো.মমিন আলী এবং মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন মো. মহিউদ্দিন। মুন্সিগঞ্জ-২ আসনে কোন স্বতন্ত্র বা বিদ্রেহী প্রার্থী নেই।