
কেনাকাটায় ঈদের আনন্দ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
কয়েকদিন পরেই ঈদ। এ সময় ছোট বড় সবাই নতুন পোশাকের রঙিন সাজে নিজেকে সাজাবেন। মার্কেটগুলোতে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা করতে উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঈদ ফ্যাশনের ধরনেও পরিবর্তন হয়। ঈদের এ আনন্দ নিজের মধ্যে তুলে ধরতে রমজানজুড়ে চলে কেনাকাটা। প্রিয় মানুষের জন্য দোকানে দোকানে ঘুরে পছন্দের পোশাক কিনতে থাকে লম্বা সময়জুড়ে প্রস্তুতি। তাই, ঈদের এ সময়কে কেন্দ্র ফ্যাশন হাউজগুলোতেও থাকে ভিন্নতার আমেজ। ঈদ যেহেতু শীত শেষে গরমের শুরুর দিকে, তাই পোশাকের মধ্যে পরিবর্তন আসবেই। এবারের ঈদ ফ্যাশনের মূল ট্রেন্ড হলো ঐতিহ্য আর আধুনিকতার সংমিশ্রণ। পশ্চিমা ধাঁচের কাটিং-স্টাইলের সঙ্গে দেশীয় নকশা ও কারুকাজের মিশ্রণ এবারের ঈদের ফ্যাশনে দারুণভাবে জায়গা করে নিয়েছে। চলুন জেনে নেই, এবারের ঈদের ট্রেন্ডি পোশাক ও স্টাইলের হালচাল।
মুন্সীগঞ্জ শহরের আফতাবউদ্দিন কমপ্লেক্সে ঈদের পোশাক কিনতে এসেছিলেন কাজী প্রভাত। তিনি বলছিলেন, ‘ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, দাম তত বাড়ছে। পছন্দসই জিনিসও কমছে। তাই যত তাড়াতাড়ি কেনাকাটা করা যায়, ততই ভালো। এ কারণে এসেছি। প্রথমে শিশুদের, পরে নারীদের জন্য পোশাক কিনেছি। এখন বাকি পুরুষদের। আমরা কিছু পাঞ্জাবি কিনব।’
জিনিয়া ফেরদৌস নামে আরেক ক্রেতার ভাষ্য, ‘মেয়ের জন্য জামা কিনলাম। গতবারের তুলনায় এবার দাম তুলনামূলক বেশি। জামার সঙ্গে মিলিয়ে বিভিন্ন ধরনের জুতাও কেনা হচ্ছে।’ প্রভাত ও জিনিয়ার মতো হাজারো ক্রেতার পদচারণায় মুখর মুন্সীগঞ্জ শহরের বিপণিবিতান। পুরোদমে জমে উঠেছে ঈদের বেচাকেনা।
ঈদে ক্রেতাদের দৃষ্টি কারতে বিপণিবিতানে বাহারি রঙের লাইটিং দিয়ে সাজানো হয়েছে। ঈদ এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সব বয়সের নারী-পুরুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। ফুটপাতেও কেনায় ব্যস্ত স্বল্প আয়ের মানুষ। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা। নিজের কিংবা প্রিয়জনের জন্য ঈদের পোশাক কিনতে আসছেন ক্রেতা।
জেলা শহরের মসজিদ মার্কেট, জিএইচ সিটি সেন্টার, আফতাব উদ্দিন শপিং কমপ্লেক্স, শহর জামে মসজিদ মার্কেট ও জেলা পরিষদ মার্কেটে ক্রেতার বেশি ভিড় দেখা গেছে। সব বয়সী মেয়ের পাশাপাশি ছেলেরাও দেশি-বিদেশি পছন্দের পোশাক বেছে কিনছেন। রেডিমেড ও তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ভিড় বেড়েছে জুতা, স্যান্ডেল ও কসমেটিকসের দোকানে। বাড়তি দাম নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের অভিযোগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত কিনেই ফিরছেন ক্রেতা।
পোশাক বিক্রেতারা জানিয়েছেন, জামদানি ৩ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা, মেয়েদের পাগলু, বিপাশা বসু, জান্নাত-টু, আশিকী-২, জিপসি ৩৫০ থেকে ২৮ হাজার ৫০০ টাকা, ছেলেদের কার্গো জিন্স, থাই, ডিসকার্ড-২, সিম ফিট, ফরমাল টি শার্ট ৭৫০ থেকে ৩ হাজার ৪শ টাকা, ছোটদের লেহেঙ্গা, মাসাক্কালী, সিঙ্গেল টপ, টপসেট, গেঞ্জিসেট ১ হাজার ২০০ থেকে ৭ হাজার টাকা, পাঞ্জাবির মধ্যে বড়দের ছোটদের ধুতি কাতান ৩৫০ টাকা থেকে ৫ হাজার এবং আকর্ষণীয় শেরওয়ানি ৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। নতুন করে বাজারে এসেছে ছেলেদের বাহুবলী, বজরঙ্গি ভাইজান ও রইস পাঞ্জা্বি। এদিকে ক্রেতারা জানান, কাপড়ের দাম বেশি ।
ব্যবসায়ীরা জানান, মুন্সীগঞ্জে কয়েকটি আধুনিক বিপণিবিতান হওয়ায় এবার ক্রেতাদের ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে যেতে হয়নি। তারা মুন্সীগঞ্জেই কেনাকাটা করছেন। পোশাক কিনতে আসা সুরাইয়া আক্তার বলেন, এবার দাম অনেক বেশি। ঈদের জন্য ৩ হাজার টাকা দামের থ্রিপিস কিনেছেন। কফিলউদ্দিন নামে আরেক ক্রেতা পাঞ্জাবি ও পায়জামা কিনেছেন ২ হাজার টাকায়। তিনি বলেন, দাম বেশি। তারপরও কিনতে হবে।
শহর জামে মসজিদ মার্কেটের ব্যবসায়ী মো. জনি। তাঁর ভাষ্য, অন্য জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে, তার প্রভাব পোশাক-পরিচ্ছদেও পড়েছে। পাইকারি বেশি দামে কেনা পড়ছে। ব্যবসায়ী নাজমুল হোসেন বলেন, এবার বেচাকেনা বেশ জমজমাট। ভালো বিক্রি হচ্ছে।