
স্টাফ রিপোর্টার
মুন্সিগঞ্জ শহর ও শহরতলীতে দীর্ঘদিনের তীব্র গ্যাস সংকট এখন চরম আকার ধারণ করেছে। প্রায় ১০ বছর ধরে আবাসিক এলাকায় গ্যাস সরবরাহ অনিয়মিত থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। দিনের বেলায় চুলায় গ্যাস না থাকায় হাজার হাজার পরিবার চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। গৃহিণীরা বাধ্য হয়ে গভীর রাতে রান্না করছেন, কারণ রাত ১২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত সামান্য গ্যাস পাওয়া যায়। দিনের বেলায় কার্যত গ্যাস শূন্যের কোঠায় নেমে আসে।
ফ্ল্যাটবাড়িতে খড়ি (লাকড়ি) বা কেরোসিনের চুলা ব্যবহার সম্ভব না হওয়ায় অনেকেই অসহায় হয়ে পড়েছেন। আবার কেউ কেউ বিকল্প হিসেবে খড়ির চুলায় রান্না করছেন। এতে করে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশ দূষণ। প্রতিদিন রান্না-বান্না নিয়ে দুর্ভোগে পড়ছেন নিম্নআয়ের পরিবার, দিনমজুর, শিক্ষক ও চাকরিজীবীরা। অনেক শিশু সকালে না খেয়েই স্কুলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ অভিভাবকদের।
গ্যাস অফিস সূত্রে জানা গেছে, মুন্সিগঞ্জে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৫ দশমিক ২৫ এমএমসিএম (মিলিয়ন ঘনমিটার)। তবে প্রকৃত সরবরাহ কত—তা স্পষ্টভাবে জানাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। জেলায় বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার আবাসিক সংযোগ এবং ৪৫টি শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সংযোগ রয়েছে।
গ্যাসের দাবিতে মুন্সিগঞ্জবাসী একাধিকবার আন্দোলনে নামলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি অবগত থাকলেও দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড-জানান, গ্যাস সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে কেন্দ্রীয় কার্যালয়। আঞ্চলিক অফিসের দায়িত্ব সংযোগ প্রদান ও বিল সংগ্রহ করা। সংকট নিরসনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে, তবে এখনো বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়নি।
দীর্ঘদিনের এ সংকটে অতিষ্ঠ মুন্সিগঞ্জবাসী দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করবে।