
লৌহজংয়ে পদ্মায় নেই ইলিশ-জেলেরা হতাশ,
বাজারে সরবরাহ কম থাকায় ক্রয় ক্ষমতা মধ্যবিত্তদের নাগালের বাইরে
মোঃ স্বপন বেপারী ।।
মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে পদ্মা নদীতে ইলিশ শিকারে নেমেও আশানুরূপ মাছের দেখা পাচ্ছেন না জেলেরা। নিষেধাজ্ঞা শেষে বুকভরা আশা নিয়ে নদীতে নামলেও অনেকটা খালি হাতেই তীরে ফিরতে হচ্ছে তাঁদের। গত বছরের তুলনায় এ বছর পদ্মায় ইলিশের উপস্থিতি অনেক কম বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা। এতে একদিকে যেমন হতাশা বাড়ছে জেলেদের মধ্যে, অন্যদিকে ইলিশের দামও থাকছে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।
স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে নদীতে মাছ ধরতে গেলে যে পরিমাণ ইলিশ পাওয়া যেত, এবার তার তুলনায় অনেক কম মাছ মিলছে। ১৫ থেকে ২০ জন জেলে একসঙ্গে নৌকা নিয়ে নদীতে নামলেও কখনো তিন থেকে চার কেজি মাছ নিয়ে ফিরতে হচ্ছে। এতে জ্বালানি, শ্রমিক ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে লাভের মুখ দেখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
জেলেদের ধারণা, পদ্মা নদীর আগের মতো স্রোত না থাকা এবং নদীর নাব্যতা ও পানির প্রবাহের পরিবর্তনের কারণে ইলিশের বিচরণ কমে গেছে। তাঁদের ভাষ্য, পদ্মার চিরচেনা রূপ বদলে যাওয়ায় মাছের পরিমাণও আগের মতো নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান শেখ (৪৮) বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার পদ্মায় ইলিশ অনেক কম পাওয়া যাচ্ছে। জেলেরা নদী থেকে যে সামান্য মাছ ধরে আনছেন, তা বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের পক্ষে ইলিশ কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। ইলিশ এখন অনেকটাই সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।
এদিকে ইলিশের আশায় অনেক জেলে নতুন জাল ও নৌকা তৈরি করে নদীতে নেমেছেন। তাঁদের অনেকেরই রয়েছে ঋণের বোঝা। মাছ ধরে সেই ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি পরিবারের খরচ মেটানো এবং নতুন করে জীবিকার স্বপ্ন দেখছিলেন তাঁরা। কিন্তু নদীতে মাছ না থাকায় সেই স্বপ্ন এখন অনেকটাই অনিশ্চয়তার মুখে।
জেলেদের চোখেমুখে এখন হতাশা। নিষেধাজ্ঞা শেষে যে আশায় তাঁরা পদ্মায় নেমেছিলেন, সেই আশা পূরণ না হওয়ায় সংসার চালানো, ঋণ পরিশোধ ও জীবিকা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁদের। পদ্মার বুকে আবারও আগের মতো রুপালি ইলিশের ঝাঁক ফিরবে,এমন প্রত্যাশায় দিন গুনছেন নদীনির্ভর এসব মানুষ।