
মো. শফিকুল ইসলাম ভূঞা
মুন্সিগঞ্জ জেলার রামপাল ইউনিয়নের পানাম গ্রামের পশ্চিম প্রান্তে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে পোলঘাটা সেতু। প্রাচীন শ্রীবিক্রমপুর মহানগরের সীমানা পরিখা হিসেবে পরিচিত মীরকাদিম খালের ওপর নির্মিত এই সেতুটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা। জনশ্রুতি ও স্থাপত্যশৈলী বিশ্লেষণ করে ইতিহাসবিদরা মনে করেন, এটি মুঘল আমলে চুন-সুড়কির কারুকাজে নির্মিত হয়েছিল। যদিও স্থানীয়ভাবে একে অনেক সময় আরও প্রাচীন বা ‘গায়েবি’ সেতু হিসেবে অভিহিত করা হয়, তবে এর তিনটি খিলান বা আর্চ মূলত মুঘল স্থাপত্যরীতিরই পরিচয় বহন করে।
মুন্সিগঞ্জ শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এবং টঙ্গীবাড়ি থেকে ৭ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই সেতুটি লম্বায় ৫২.৪২ মিটার। ধনুকাকৃতির এই বিশাল কাঠামোটি তৎকালীন সময়ে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ছিল। মাঝখানের বড় খিলানটি দিয়ে একসময় বড় বড় নৌকা যাতায়াত করত, যা এই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। তবে সময়ের বিবর্তনে এবং বিভিন্ন সময়ে অপরিকল্পিত সংস্কারের ফলে সেতুটির আদি অলঙ্করণ ও আদিম রূপ অনেকটাই ঢাকা পড়ে গিয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এই সেতুটির রক্ষণাবেক্ষণ করছে। মুন্সিগঞ্জের প্রাচীন ইতিহাসের অবশিষ্টাংশ হিসেবে পোলঘাটা সেতুটি আজও পর্যটক ও ইতিহাসপ্রেমীদের কাছে এক প্রধান আকর্ষণ। এটি কেবল একটি পারাপারের মাধ্যম নয়, বরং কয়েকশ বছরের পুরনো বিক্রমপুরের আভিজাত্য ও ঐতিহ্যের এক নীরব দলিল।