
শ্রীকান্ত দাস
মুন্সিগঞ্জ আদালতের বিচারাধিনে থাকা ডাকাতির প্রস্তুতি মামলায় আওলাদ হোসেন বেপারী (৩৫) নামের এর আসামি আটক রয়েছে কারাগারে। টাকার অভাবে রাখতে পারে না আইনজীবী। আসামির সত্যতা যাচাই করে মানবিক দৃষ্টিতে আসামির নিজ জিম্মায় জামিন দিলেন বিচারক চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গাজী দেলোয়ার হোসেন। গতকাল রবিবার দুপুরে আদালতের বিচারকার্য চলাকালীন সময়ে বিচারক আসামির কাছ থেকে সত্যতা জানতে চাইলে আসামি বলেন আমি মিস্ত্রি কাজ করি, কাজ না থাকায় আমি চুরি করতে গিয়েছিলাম তবে আমি ডাকাত না। আসামির এমন মৌখিক জবানবন্দির উপর ভিত্তি করে বিচারক মানবিক দিক চিন্তা করে নিজ জিম্মায় জামিনে মুক্তি দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. বুলবুল আহম্মেদ।
আসামি আওলাদ হোসেন বেপারী শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর গোয়ালপাড়া গ্রামের মৃত সজল বেপারীর ছেলে।মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ সালের ১৭ আগস্ট বিকেলের দিকে ঢাকা ু মাওয়া হাইওয়ে রোডের শ্রীনগর উপজেলার হাসাড়া কেসি রোডের সামনে ডাকাতি প্রস্তুতি কালে বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র সহ ২ জন আসামিকে আটক করে পুলিশ। এসময় অপর একজন আসামি পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় শ্রীনগর থানার কর্মরত পুলিশের এস.আই মো. আরিফুল ইসলাম বাদি হয়ে শ্রীনগর থানায় ডাকাতির প্রস্তুতির ঘটনায় আটক আসামি সহ অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনকে আসামি করে মামলা করে।
আসামি আওলাদ হোসেন বেপারীকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে গত ২৩ সালের ১০ নভেম্বর আটক করে পুলিশ। পরে ১৮ দিন হাজত বাসের পর আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনে যান। এরপরে আসামি টাকার অভাবে আদালতে আসতে না পারায় তার জামিন বাতিল হওয়ায় পুনরায় আসামিকে পুলিশ গত ২১ মে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেন।গতকাল রবিবার (২৫ মে) মামলার ধার্য তারিখ থাকায় আসামিকে কারাগার হতে আদালতে আনলে বিচারক তার মৌখিক জবানবন্দি নিয়ে নিজ জিম্মায় জামিনের আদেশ দেন। এসময় আদালতে থাকা একাধিক আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী বিচারকের কাজে সন্তুষ্ট হয়েছেন। অনেকেই বলে উঠেন গরিব মানুষের জন্য এমন মানবিক বিচারকই দরকার, সৃষ্টিকর্তা তাকে ভালো রাখুক।
বিচারকার্য শেষ হওয়ার পর আসামি আওলাদ হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি মিন্ত্রি কাজ করি। পরিবারে ৩ ছেলে মেয়ে সহ ৫ জনের সংসার। ঠিকমতো খেতে না পারায় বাধ্য হয়ে ওই সময়ে আমি চুরি করতাম। তবে আমি ডাকাত না। টাকা না থাকায় আমি উকিল ধরতে পারি না। সংসারে খাবারের টাকা জোগাড় করতে পারে নাই বিধায় আজ আমার পরিবারের কেউ কোর্টে আসেনি। আমি আদালতে সত্য কথা বলেছি। সত্য বলায় বিচারক আমাকে দয়া করে জামিন দিয়েছে। স্যার অনেক ভালো মানুষ।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সুলতানা রোজিনা ইয়াসমিন বলেন, আমি এই কোর্টের সরকারি আইনজীবী। আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে দেখে আসছি চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট স্যার অনেক দক্ষতার সাথে কাজ করছে। তিনি বিচারপ্রার্থীদের ন্যায় বিচারের স্বার্থে আদালতের মূল্যবান সময় ব্যয় করে হলেও আলোচনার মাধ্যমে অনেক বড় বড় সমস্যা সমাধান করেন। স্যার আজ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সত্যতা জেনে মানবিক বিবেচনায় নিজ জিম্মায় জামিনের দয়া করে গরিবের জন্য একটা মহৎ কাজ করেছে। আমি স্যারের ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করি।