
৫ বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চলছে কার্যক্রম, ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা ব্যাবস্থা
আবু নাসের লিমন।।
মুন্সীগঞ্জের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থায় চরম সংকট সৃষ্টি হয়েছে। ৫ বছর ধরে জেলার মোট ৬১০ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ২২৬ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত দিয়েই চলছে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম। যার কারনে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থাপনা।
ফলে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব বাস্তবায়নে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় ভারপ্রাপ্ত ও অস্থায়ী দায়িত্বপ্রাপ্তরা বিদ্যালয় পরিচালনা করছেন, যা শিক্ষা পরিষেবা ও পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এদিকে শিক্ষক সংকটের কারণে স্কুলগুলোতে প্রয়োজনীয় নেতৃত্ব ও তদারকির অভাব তৈরি হয়েছে। প্রধান শিক্ষক না থাকায় পরিকল্পিত পাঠদান, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং অভিভাবক-শিক্ষক যোগাযোগ সবই দুর্বল হয়ে পরেছে। এসব কারণে অনেক বিদ্যালয়ে পাঠদানের মান কমতে শুরু করেছে এবং অভিভাবকরাও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ৬টি উপজেলায় মোট ৬১০ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মধ্যে প্রায় ২২৬ টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক সংকট। তার মধ্যে মুন্সীগঞ্জ সদরে ১১৫টি স্কুলের মধ্যে ৫১ টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। টঙ্গীবাড়িতে ৯২টি স্কুলের মধ্যে ২৯ টি বিদ্যালয়ে , সিরাজদিখানে ১২৮ টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪০ টি বিদ্যালয়ে, লৌহজংয়ে ৭৬টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩১ টি বিদ্যালয়ে, শ্রীনগরে ১১২টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৪০ টি বিদ্যালয়ে, গজারিয়ায় ৮৭ টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৫ টি বিদ্যালয়ে সব মিলিয়ে সম্পুর্ন জেলায় ২২৬ জন প্রধান শিক্ষকে পদ শূন্য। এখানে কর্মরত রয়েছেন ৩৮৪ জন।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় নেতৃত্ব প্রধান শিক্ষক। শিখন শেখানো ও পরিচালনায় কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেন তারা। তাদের অনুপস্থিতিতে শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা পাঠদানসহ প্রশাসনিক দায়িত্বও সামলাতে গিয়ে অতিরিক্ত চাপ নিতে বাধ্য হচ্ছেন। যার নেতিবাচক প্রভাব পরছে পুরো শিক্ষা ব্যাবস্হার উপর।
তারা আশা করছেন পদোন্নতি, সরাসরি নিয়োগ ও তদবিরের মাধ্যমে দ্রুত শূন্য পদ পূরণ হবে। তবে এখন পর্যন্ত বড় অঙ্কের পদ পূরণের নির্দিষ্ট কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। বেশ কিছু শিক্ষক কোর্টে মামলা ও রিট করার কারণেও প্রধান শিক্ষক নিয়োগে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, শুধু পদ পূরণই যথেষ্ট নয়, নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুততর করা ও শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করা জরুরি, নতুবা প্রাথমিক শাখার শিক্ষা নেতৃস্থানীয় সংকট অর্জিত শিক্ষার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. নজরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে মুন্সীগঞ্জ জেলায় বেশ কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এধরনের সমস্যা রয়েছে। শূন্য পদ পূরণের জন্য ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বেশ কয়েকবার। উচ্চ আদালতে একটি মামলা হওয়ার কারনে এই পদে নিয়োগ সংক্রান্ত কিছুটা জটিলতা রয়েছে। তবে আগামী ফেব্রুয়ারী মাসে আদালত থেকে এর একটি সমাধান হবে বলে আশা করা যায়। তখন এই শুন্য পদ গুলো খুব দ্রুত পুরন হয়ে যাবে।