
শাহিদ শাওন:
জীবনের প্রতিটি বাঁধা ডিঙিয়ে এগিয়ে চলার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্তের নাম জুলিয়া। শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও তিনি দমে যাননি। সরকারি হরগঙ্গা কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এই তরুণী স্বপ্ন দেখেন পড়াশোনা শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়াবেন এবং পরিবারের পাশে দাঁড়াবেন। কিন্তু স্বপ্নের সেই পথ মোটেও সহজ ছিল না।
তার সংগ্রামের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বহু মানুষ এগিয়ে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তবে বাস্তব পদক্ষেপ নিলেন দি হলি কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আক্তার হোসাইন। নতুন প্রতিষ্ঠানে রিসেপশনিস্ট পদে চাকরির সুযোগ করে দিয়ে তিনি প্রমাণ করলেন—মানবিক উদ্যোগই পারে কারও জীবন পাল্টে দিতে।
রবিবার দুপুরে এক সাদামাটা আয়োজনে হরগঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষের হাত থেকে জুলিয়ার হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সমাজকর্মী ও যুবদলের সদস্য সচিব মোহাম্মদ মাসুদ রানা। তিনি শুধু সুপারিশই করেননি, প্রতিমাসে জুলিয়ার যাতায়াত খরচ বাবদ ৪ হাজার টাকা দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
আক্তার হোসাইন বলেন, “জুলিয়ার লড়াইয়ের গল্প আমাকে নাড়া দিয়েছে। হয়তো এই চাকরির মাধ্যমে তার সব সমস্যা সমাধান হবে না, কিন্তু আমি চাই এটি তার আত্মনির্ভরতার পথে প্রথম ধাপ হোক।”
এ যেন শুধু একটি চাকরির খবর নয়—এটি মানবিকতার একটি অনন্য উদাহরণ। সমাজের সামর্থ্যবানরা যদি এভাবে এগিয়ে আসেন, তবে কোনো প্রতিবন্ধকতাই কারও জীবনের স্বপ্নকে থামাতে পারবে না।
আজকের দিন থেকে দি হলি কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নতুন যাত্রার সঙ্গে শুরু হলো জুলিয়ার জীবনেরও নতুন অধ্যায়।