
আলুর স্বর্গরাজ্য মুন্সিগঞ্জে আলু গবেষণাগারের দাবি
ফিচার প্রতিবেদন
প্রাচীন বিক্রমপুর-এর বর্তমান নাম মুন্সিগঞ্জ। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও কৃষি সমৃদ্ধ এ জেলা সারা দেশে সুপরিচিত। বিশেষ করে আলু উৎপাদনে মুন্সীগঞ্জের খ্যাতি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও পৌঁছেছে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এ জেলাকে অনেকেই ‘আলুর স্বর্গরাজ্য’ হিসেবে অভিহিত করেন। তবে দেশের সর্বোচ্চ আলু উৎপাদনকারী জেলা হওয়া সত্ত্বেও এখানে এখনো কোনো আলু গবেষণাগার স্থাপিত হয়নি—যা স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহলে দীর্ঘদিনের আক্ষেপ।
সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ আলু উৎপাদনে বিশ্বে সপ্তম স্থানে রয়েছে। দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে মুন্সীগঞ্জে তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে বেশি আলু উৎপাদিত হয়। প্রতি বছর জেলার বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে বিপুল পরিমাণ আলু উৎপাদিত হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি সংরক্ষণ ও বাজারজাত করা হয়।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানান, মুন্সীগঞ্জের মাটি ও আবহাওয়া আলু চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। জেলার হাজার হাজার কৃষক আলু চাষের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এছাড়া আলু সংরক্ষণের জন্য এখানে অসংখ্য হিমাগার গড়ে উঠেছে, যা জেলার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। আলু উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিপণনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামো।
তবে এতসব সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও মুন্সীগঞ্জে কোনো আলু গবেষণাগার না থাকায় কৃষকরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে উন্নতমানের বীজের অভাব, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন জাতের ঘাটতি এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা তাদের উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক ও তরুণ যুবকরা জানান, প্রতিবছর তাদের আলুর বীজ সংগ্রহের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয়। দেশের কিছু প্রতিষ্ঠান আলুর বীজ উৎপাদন করলেও অনেক ক্ষেত্রে সেসব বীজের মান সন্তোষজনক নয়। ফলে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যায় না এবং কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
মুন্সীগঞ্জের একাধিক তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা বলেন, “মুন্সীগঞ্জ যেহেতু দেশের সর্বোচ্চ আলু উৎপাদনকারী জেলা, তাই এখানে একটি আলু গবেষণাগার স্থাপন অত্যন্ত জরুরি। গবেষণাগার থাকলে উন্নতমানের ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন বীজ উদ্ভাবন করা সম্ভব হবে। এতে উৎপাদন খরচ কমবে এবং ফলন বাড়বে।”
তারা আরও জানান, আলু শুধু একটি সবজি নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প পণ্য হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। আলু থেকে চিপস, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, স্টার্চ, গুঁড়া এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাদ্য উৎপাদন করা সম্ভব। এসব পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা করা হলে আলুভিত্তিক শিল্প গড়ে ওঠার সম্ভাবনাও বাড়বে, যা দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।