
মুন্সিগঞ্জ বিক্রমপুর ইঞ্জিনিয়ার্স আর্কিটেক্টস ও প্ল্যানার্স সোসাইটির ৯ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা মন্ডলী ও ৩৬ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। নবগঠিত কমিটিতে অভিজ্ঞ প্রকৌশলী মো: শাহীন হোসেনকে জয়েন্ট মেম্বার সেক্রেটারি পদে নির্বাচিত করা হয়েছে।
প্রকৌশলী মো: শাহীন হোসেন (আইইবি আইডি: F/14440), যিনি ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশের লাইফ ফেলো, দীর্ঘদিন ধরে পেশাগত দক্ষতা ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছেন। পাশাপাশি তিনি দোহার পৌরসভার ভবন নকশা অনুমোদন কমিটির বোর্ড মেম্বার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
জন্ম ও শিক্ষাজীবনঃ
১৯৮৭ সালের ১ম জুন মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার মালখানগর ইউনিয়নের ফেগুনা সার গ্রামে জন্ম নেন শাহীন হোসেন। তাঁর পিতা মো: আমির হোসেন এবং মাতা ফাতেমা বেগম। মালখানগর হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক, সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ২০১০ সালে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ফার্স্ট ক্লাস ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০২১ সালে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ এবং ২০২২ সালে ABP-Edupro UK যৌথ উদ্যোগে PGDPM কোর্স সম্পন্ন করেন।
পেশাগত সাফল্য ও অবদান
কর্মজীবনের শুরুতে প্রকৌশলী মো: শাহীন হোসেন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সুনামধন্য প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে মাতৃভূমির প্রতি টান তাকে দেশে ফিরিয়ে আনে। দেশে ফিরে তিনি কনভেয়ার গ্রুপ, প্রিমিয়ার গ্রুপ, ইস্ট কোস্ট গ্রুপ, সুবাস্তু এবং সিটিস ক্যাপ ইন্টারন্যাশনালসহ একাধিক স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বশীল পদে কর্মরত ছিলেন।
তবে তাঁর অন্তর্নিহিত স্বপ্ন ছিল একজন উদ্যোক্তা হিসেবে নিজস্ব উদ্যোগ গড়ে তোলা। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০১৩ সালে তিনি সিরাজদিখানে তথা বিক্রমপুরে ‘বিক্রমপুর ডিজাইনারস অ্যান্ড বিল্ডার্স’ নামে একটি কনসালটেন্সি ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেন, যা ওই অঞ্চলের প্রথম কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দ্রুত সুনাম অর্জন করে।
বর্তমানে তিনি স্মার্ট ইঞ্জিনিয়ারিং-এর সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর নেতৃত্বে বিক্রমপুর ডিজাইনারস অ্যান্ড বিল্ডার্স এবং স্মার্ট ইঞ্জিনিয়ারিং শুধু বিক্রমপুর বা ঢাকা নয়, বরং সারা দেশে দক্ষতা, মানসম্পন্ন নকশা ও নির্ভরযোগ্য সেবার জন্য পরিচিতি লাভ করেছে। অদ্যাবধি তাঁর নকশায় চার শতাধিক ভবন নির্মিত হয়েছে, যা মানুষের মনে আস্থা ও বিশ্বাসের দৃঢ় অবস্থান তৈরি করেছে।
প্রযুক্তিবিদদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি গ্রীন ও স্মার্ট বিক্রমপুর গঠনে আত্মসামাজিক ও নগর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।
ব্যক্তিগত জীবন ও লক্ষ্যঃ
এক ছেলে ও এক কন্যার জনক শাহীন হোসেন পেশাগত জীবনের পাশাপাশি স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন। সিরাজদিখান তথা মুন্সিগঞ্জের টেকসই উন্নয়নে তাঁর অবদান এলাকাবাসীর কাছে প্রশংসিত হয়েছে।
ভবিষ্যতেও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো ও টেকসই নগরায়নের লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।