
তোফাজ্জল হোসেন শিহাব:
খানাখন্দে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার চর কিশোর গঞ্জ (মোল্লাপাড়া) বাজারের প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক। ব্যবহার যোগ্য এ সড়ক এখন মরণফাঁদে পরিণত প্রায়। ফলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এ এলাকার মানুষকে।
চলাচলের জন্য গত কয়েক বছর আগে এখানে রাস্তা ( আরসিসি) নির্মান করা হয় । অনেকটা পুরনো হওয়ায় রাস্তার অনেকটা অংশের ঢালাই উঠে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। যানবাহন সহ জনসাধারণের চলাচলে চরম বেগ পোহাতে হচ্ছে।
মোল্লাপাড়া বাজার থেকে প্রাইমারি স্কুল হয়ে যোগিনীঘাট ব্রিজের আগ পর্যন্ত প্রায় ৪‘শ মিটার, বাজার এলাকা থেকে বটতলা, এবং চর কিশোর গঞ্জ পূর্ব পাড়া এলাকা মোট দেড় কি.মি সড়কে এমন অস্বাভাবিক খানাখন্দে স্থানীয়দের চলাচল দুষ্কর হয়ে পড়েছে। মারাত্মক ভাঙ্গনের কারনে গ্রামীন জনপদের লোকজনের এই সড়কে চলাচল বিপদজ্জনক আকার ধারন করেছে।
আরসিসির এই সড়কটি নির্মানে রডের তেমন ব্যবহার হয়নি বলে স্থানীয় সুত্রে জানা যায়। যার কারণে বিভিন্ন স্থানে সড়কের অংশ মাঝখান থেকে ভেঙ্গে পড়ে আছে। সরেজমিনে মোল্লাপাড়া মনির মোল্লার দোকান শুরু করে প্রাইমারি স্কুল, বাজার থেকে বটতলা পর্যন্ত পুরোটাই ভাঙ্গা দেখতে পাওয়া যায়।
মোল্লাপাড়া বাজারের মুদি ব্যবসায়ীদের মালামাল আনা নেওয়ার একমাত্র সড়ক এটি। তাছাড়া কৃষি প্রধান এলাকা হিসেবে এখানে কৃষকের উৎপাদিত সবজি বাজারে আনতে রীতিমতো বিপাকে পড়ছেন তারা। তাছাড়া জরুরী প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ রোগীকে শহরে আনতেও রয়েছে জটিলতা ও বিড়ম্বনা।
স্কুল -কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৪/৫ বছর ধরে রাস্তাটির বেহাল অবস্থা। পৌরসভায় বাসিন্দা হয়েও আমরা তেমন কোন সেবা পাচ্ছি না। রাস্তা এতটাই খারাপ, কোন অটো- মিশুক যেতেই চায়না। বাড়তি ভাড়া গুনতে হয়। পৌরপ্রশানের কাছে রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করে যান চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানাচ্ছি।
সাবেক পৌর মেয়র চৌধুরী ফাহরিয়া আফরিন কে রাস্তা সংস্কারের জন্য একাধিকবার তাগিদ জানালেও কোন সহযোগিতার আশ্বাস পায়নি এলাকাবাসী।
এই সড়কটি ব্যবহার করে প্রতিদনি অসংখ্য অটো-মিশুক চলাচল করে থাকে। তাছাড়া পর্যটন এলাকা হিসেবে ধলেশ্বরী নদীরপাড় আসতে এই সড়কটি ব্যবহার করতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে সড়ক এমন বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকলেও তা যেন কারো নজরে আসছে না। দ্রুত সংস্কারের মাধ্যমে যান চলাচল স্বাভাবিক করে তুলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসি।
বিষয়টি স্বীকার করে পৌরসভার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী (অতি.দা) মোশাররফ হোসেন জানান, রাস্তাটি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে বেশ কয়েকবার। আবারো সরেজমিনে আসা হবে। রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের আওতায় আনতে ঢাকায় রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। আশা করছি শীঘ্রই টেন্ডার হলে কাজ শুরু করা যাবে