
তোফাজ্জল হোসেন শিহাব, চীফ রিপোর্টার:
২৫০ শয্যা মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে অ্যান্টিভেনাম সংকটের কারণে সাপে কাটা এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, যথাসময়ে চিকিৎসা না পাওয়ায় এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের অবহেলার কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বেতকা ইউনিয়নের ছটফটিয়া গ্রামের চায়না মন্ডল ( ৪৫) নামে এক নারীকে সাপে কাটলে নিয়ে আসা হয় মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে। পরিবার সুত্রে জানা যায়, ১৫ জুন ভোর রাত ৪ টার দিকে হাতে ব্যথা অনুভব করে। ব্যথা বাড়তে থাকলে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে নেয়া হয়। এদিন সকালে জরুরি বিভাগে চিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন ডা. শৈবাল বসাক।
অ্যান্টিভেনাম না দিয়েই ঢাকায় রেফার করেন। তিনি চাইলে ভিন্ন কোন কোম্পানি অ্যান্টিভেনাম দেওয়ার পরামর্শ দিতে পারতেন। ঢাকায় নেওয়ার পথেই রোগীর মৃত্যু হয়। ডাক্তারের চরম অবহেলায় মৃত্যু হলো চায়না মন্ডল নামে সেই রোগীর।
হাসপাতালে থাকা অন্যান্য জানান, রোগীকে সাপে কেটেছে সেটা নিশ্চিত। তার হাতের আঙুলে চিহ্ন ছিল। তাছাড়া অ্যান্টিভেনাম দিলে তো রোগী মরে যেতনা। ডাক্তারের অবহেলা। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া দরকার।
বিষয়টি নিয়ে ডা. শৈবাল বসাক জানান, সাপে কাটা রোগীর কোন আলামত আমি পাইনি। তাছাড়া তার রক্তের মধ্যে কোন ঝামেলা ছিল না। বিষধর সাপে কাটার কোন চিহ্ন পাইনি। সরকারি রেজিস্ট্রারে / স্লিপে সাপে কাটা রোগী কেন লিখেছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে কোন উত্তর দেননি।
হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, ৭ মাসেও অ্যান্টিভেনাম নেই হাসপাতালে। স্বাস্থ্য বিভাগে অ্যান্টিভেনাম চেয়ে আজই / গতকাল চিঠি পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনাম মজুত না রাখায় সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এছাড়া, কর্তব্যরত চিকিৎসক সময়মতো রোগীকে দেখেননি বলেও দাবি করেন স্বজনরা।
স্থানীয় জনসাধানের দাবি, অবিলম্বে হাসপাতালের ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হোক এবং দায়িত্বে অবহেলার জন্য সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এ বিষয়ে জেনারেল হাসপাতাল তত্ববধায়ক ডা. আহমেদ কবীর জানান, হাসপাতালে সাপে কাটা রোগীর জন্য অ্যান্টিভেনাম মজুদ নেই। স্বাস্থ্য বিভাগে ঔষুধ চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সাপে কাটা রোগীর মৃত্যুতে ডাক্তারের কোন অবহেলা থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।