
তোফাজ্জল হোসেন শিহাব, চীফ রিপোর্টার:
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ এনে সাপে কাটার রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যের এক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। যেখানে সাত কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
উল্লেক্ষ্য মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বেতকা ইউনিয়নের ছটফটিয়া গ্রামের চায়না মন্ডল ( ৪৫) নামে এক নারীকে সাপে কাটলে নিয়ে আসা হয় মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে। গত ১৫ জুন ভোর রাত ৪ টার দিকে এঘটনায় রোগীকে নিয়ে আসা হয় মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শৈবাল বসাক বিষধর সাপে কেটেছে বলেন, তিনি শনাক্ত করেন। হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম না থাকায় তিনি রোগী কে ঢাকায় রেফার করেন। রোগীর স্বজনদের দাবি, ডাক্তার চাইলে বাহির থেকে অ্যান্টিভেনম এনে দিতে পারতেন। তাহলে অন্তত রোগীটি বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকতো।
চিকিৎসকের অবহেলায় সাপে কাটা রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। মর্মান্তিক এমন ঘটনায় নড়েচড়ে বসে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সাপে কাটা রোগীর মৃত্যুতে ডাক্তারের অবহেলা ছিল কিনা ক্ষতিয়ে দেখতে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। যেখানে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
তদন্ত কমিটিতে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সহকারি পরিচালক ডা. মো. আরিফুজ্জামানকে সভাপতি, জুনিয়র কনসালটেন্ট ( মেডিসিন) ডা. মো. সাইদ হোসেনকে সদস্য এবং আবাসিক মেডিকেল অফিসার ( আরএমও) ডা. শেখ মো. এহসানুল ইসলামকে সদস্য সচিব করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
এদিকে গত ৭ মাস ধরে জেনারেল হাসপাতালে সাপে কাটা রোগীর অ্যান্টিভেনম সংকট রয়েছে। সংবাদ প্রকাশের পর অ্যান্টিভেনম চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি পাঠায় জেনারেল হাসপাতাল মুন্সিগঞ্জ। চিঠির পরিপ্রেক্ষিত রোগীদের স্বার্থে জরুরি প্রয়োজনে ১০০ অ্যান্টিভেনম মজুদ রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জেনারেল হাসপাতাল তত্ববধায়ক ডা. আহমেদ কবীর জানান, হাসপাতালে সাপে কাটা রোগীর জন্য অ্যান্টিভেনম মজুদ ছিলনা। স্বাস্থ্য বিভাগে ঔষুধ চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আমরা আজ ১০০ টি অ্যান্টিভেনম পেয়েছি। সাপে কাটা রোগীর মৃত্যুতে ডাক্তারের কোন অবহেলা আছে কিনা এ বিষয়ে তিন সদস্যদের কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।