
তোফাজ্জল হোসেন শিহাব:
মুন্সিগঞ্জ জেলা শহরে দিন দিন হু-হু করে বেড়ে চলছে সিএনজি ও ব্যাটারি চালিত অটো – মিশুকসহ বিভিন্ন যানবাহন। একই সাথে অবৈধ পার্কিং আর ভাসমান স্যান্ডে সরু সড়কে বাড়ছে যানজট আর চলাচলে বেড়েছে ভোগান্তি। এতে করে অনেকটাই অস্বস্তিতে পড়েছে পৌরবাসী।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হলেও কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছে না লোকাল প্রশাসন।
প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে শুরু করে সন্ধা পর্যন্ত শজরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার মোড়ে মোড়ে যানজট লেগেই থাকে । যেখানে সেখানে ছোট ছোট গাড়ির যত্রতত্র পাকিং, যেন বিষফোড়া। আর পৌর শহরের ফুটপাত জুড়ে পদে পদে ভাসমান দোকান। এ যেন মরার উপর খাড়ার ঘা। সিএনজি ও অটো মিশুকের অস্থায়ী স্টান্ডের কারনে যানজট যেন ¯স্থায়ী রুপ নিতে বসেছে এখানে।
সদরের প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে এমন চিত্র লক্ষ করা গেছে। স্থানীয়দোর অভিযোগ, যানজটের চিত্র প্রতিদিনের। কাচা বাজার ও কাচারি সড়কের একই অবস্থা। উভয় পাশেই ভাসমান হাজারো দোকান। এদিকে ভাসমান দোকান উচ্ছেদে পৌর প্রশাসনের অভিযান যেন কেবল লোক দেখানো। যে পরিমানে অটো মিশুকের সংখ্যা বাড়ছে তাতে আমাদের হাটাচলাও দুষ্কর হয়ে পড়ছে।
পৌর সুশীল সমাজের নেতাদের অভিযোগ, যানজটের কথা আর কি বলবো, মুন্সিগঞ্জ হরেগঙ্গা কলেজের ওখানে মিশুকে বসে আছি যানজটের কারণে। সামনে থাকা গাড়িগুলো সড়ছেই না। বাধ্য হয়ে নেমে হেটে যাচ্ছি। এদিকে ট্রাফিক পুলিশরাও জট সামলাতে হিমশীম খাচ্ছেন নিয়মিতই।
তবে ¯স্থানীয়রা বলছেন, পৌরসভা সংলগ্ন এলাকার রাস্তার দুই পাশে একদিকে অটোস্টান্ড অন্যদিকে সিএনজি। রয়েছে অনেক দোকানও। যার কারণে রাস্তা অনেকটা সংকির্ণ হয়ে পড়েছে, বেড়েছে যানজট। ভাসমান দোকান সিএনজি স্টান্ড অন্যত্র সরিয়ে নিলেই রাস্তার প্রশস্ততা বৃদ্ধি পাবে। যানজট অনেকটাই কমে আসবে।
শহরের কাচাবাজার, কাচারি এলাকা, হরগঙ্গা কলেজ (পুলিশ সুপারের বাসভবন) , সুপার মার্কেট, বাসস্টান্ড, ফেরিঘাট, মুক্তারপুর স্টান্ড থেকে সেই সিপাহীপাড়া প্রতিটি পয়েন্টে যানজট লেগেই আছে হরহামেশা।
তবে প্রধান প্রধান সড়ক গুলোতে অটো মিশুকের পাশাপাশি সিএনজির দাপদ বেশি। আবার কাচাবাজার, পৌরসভা ও শিল্পকলার সামনে অটো ও সিএনজির স্টান্ড। যার কারণে গাড়িগুলোকে ইউটার্ন নিতে বেগ পেতে হচ্ছে। বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ন পয়েন্টে সিএনজি ও অটো মিশুকের স্টান্ড বন্ধ করা গেলে যানজট নিরসন অনেকটা হ্রাশ পাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এ দিকে সুশিল সমাজের দাবি, যানজট নিরসনে যত্রতত্র গাড়ি পাকিং বন্ধ রাখতে হবে। যেখানে সেখানে যাত্রী ওঠানামা করা যাবে না। এসব ব্যাপারে ট্রাফিক পুলিশকে আরো সচেতন হতে হবে। সকলের সমন্বয় ও সহযোগিতায় যানজট নিরসন রোধ করা সম্ভব।
এ ব্যাপারে টিআই (এডমিন ট্রাফিক বিভাগ মুন্সিগঞ্জ) মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, শহরে ইজিবাইকের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। সকল গাড়িকে নম্বরের আওতায় আনা উচিত। সেক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন, পৌরসভা, সকলের সমন্বয়ে কাজ করতে হবে। তাছাড়া যানজট নিরসনে পুলিশ যথেষ্ট কাজ করছে।
মুন্সিগঞ্জ পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার শাখার উপ পরিচালক মৌসুমী মাহবুব জানান, বিষয়টি আমি বেশ কিছুদিন ধরেই লক্ষ করছি। যানজট নিরসনে জেলা প্রশাসন থেকে খুব শীঘ্রই কার্যকর ভূমিকা নেওয়া হবে।