
মুন্সিগঞ্জের বার্তা ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মুন্সিগঞ্জ-৩ (মুন্সিগঞ্জ সদর ও গজারিয়া) আসনে এক ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক চরিত্র হিসেবে সামনে এসেছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী শেখ মো. শিমুল। রাজনীতি, সাংবাদিকতা ও সংস্কৃতির দীর্ঘ পথচলার অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি দাঁড়িয়েছেন শ্রমজীবী মানুষের প্রতীক “কোদাল” হাতে।
শেখ মো. শিমুল জেলার মানুষের কাছে শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন—তিনি একজন সংগ্রামী সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মী। দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে রাজপথে সক্রিয় এই নেতা অন্যায়, দুঃশাসন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে কখনো আপস করেননি।
সমাজ পরিবর্তনের সংগ্রামে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়—মেহনতি মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্নে অটল।
মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের নয়াগাঁও পশ্চিম পাড়া এলাকায় জন্ম নেওয়া শেখ মো. শিমুলের পারিবারিক ইতিহাসও সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ। তার দাদা ছাবেদ আলী শেখ ছিলেন সুপরিচিত ও স্বনামধন্য ব্যক্তি। বাবা শেখ মো. সামছুদ্দিন ছিলেন সরকারি চাকুরিজীবী, যিনি নারায়ণগঞ্জ সোনাকান্দা বিআইডব্লিউটিএর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে কর্মরত ছিলেন। চাকুরীর সুবাদে পরিবারটি দীর্ঘদিন নারায়ণগঞ্জে বসবাস করলেও ১৯৯০ সালে অবসর গ্রহণের পর নিজ জেলা মুন্সিগঞ্জ ফিরে আসেন। ২০০২ সালে তার বাবার মৃত্যু হয়।
মা মোসা. মাহফুজা খাতুন একজন গৃহিণী হলেও রাজনৈতিকভাবে সচেতন পরিবারের সদস্য। তিনি মুন্সিগঞ্জের ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক তুখোড় ছাত্র নেতা ও মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমানের বড় বোন। আট ভাই এক বোনের মধ্যে শেখ মো. শিমুল অষ্টম।
শৈশব থেকেই সমাজতান্ত্রিক চিন্তার প্রভাব তার জীবনে গভীরভাবে কাজ করে। মুন্সিগঞ্জ জেলার তৎকালীন শ্রমিক নেতা কমরেড বাদশা খাঁ, কমরেড অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান মানিকসহ একাধিক বাম নেতার সংস্পর্শে এসে তিনি বাম রাজনীতিতে আরও দৃঢ় হন।
নব্বইয়ের দশকে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীতে যুক্ত হন। জেলা মাধ্যমিক স্কুল কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি পরবর্তীতে ছাত্রমৈত্রী জেলা কমিটির সদস্য ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্র রাজনীতি থেকে বেরিয়ে তিনি বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির মুন্সিগঞ্জ জেলা কমিটিতে প্রাথমিক ও পরে পূর্ণাঙ্গ সদস্য নির্বাচিত হন।
২০০৪ সালে ১১ দলীয় বাম জোট থেকে ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জন্ম হলে শেখ মো. শিমুল শুরু থেকেই এ ধারার সঙ্গে যুক্ত থাকেন। পরবর্তীতে তিনি দলটির মুন্সিগঞ্জ জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সম্পাদক এবং বর্তমানে জেলা কমিটির সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার হামলা, হুমকি ও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। তবুও তিনি কখনো রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াননি। তার ভাষায়—এই লড়াই ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য।
রাজনীতির ব্যস্ততার মধ্যেও শিক্ষাজীবন চালিয়ে গেছেন শেখ মো. শিমুল। তিনি নারায়ণগঞ্জ আই.ই.টি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, সরকারি আদমজীনগর এম.ডব্লিউ কলেজ থেকে এইচএসসি এবং নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে বিএসএস ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি পিপলস ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (পিইউবি) থেকে আইন বিষয়ে এলএলবি শেষ বর্ষে অধ্যয়নরত।
১৯৯৫ সাল থেকে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত শেখ মো. শিমুল স্থানীয় সাপ্তাহিক পত্রিকা দিয়ে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ের সংবাদমাধ্যমে কাজ করেছেন। তিনি দৈনিক খবরপত্র, দৈনিক আমাদের অর্থনীতি, বৈশাখী টেলিভিশন, চ্যানেল এস, সিএসবি নিউজ, দৈনিক মানবকণ্ঠ, বাংলামেইল২৪, ঢাকাপ্রকাশসহ একাধিক গণমাধ্যমে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি দৈনিক ভোরের পাতা ও আরটিভির মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।
তিনি মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক নির্বাচিত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে সিনিয়র সদস্য। এছাড়া ইয়ুথ জার্নালিস্ট ফোরাম বাংলাদেশ (YJFB)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান কেন্দ্রীয় সদস্য।
সংস্কৃতিচর্চা শেখ মো. শিমুলের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। মুন্সিগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সংগীত, অভিনয় ও নৃত্যে প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সক্রিয় হন। জেলার প্রথম ও একমাত্র উচ্চাঙ্গসংগীত সংগঠন ‘সারং সাংস্কৃতিক পরিষদ’ প্রতিষ্ঠা করে তিনি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সহ-সভাপতি হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।
বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক হিসেবে তিনি ভারতের সিপিআই (এমএল) লিবারেশন পার্টির কংগ্রেসে পাঞ্জাব, দিল্লি ও কলকাতায় প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন। সেখানে আন্তর্জাতিক পরিসরে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়, যা ভারতের জাতীয় পত্রিকায় গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়।
নির্বাচনী মাঠে শেখ মো. শিমুল স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কোদাল শুধু একটি প্রতীক নয়—এটি শ্রমের মর্যাদা, কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের অধিকার এবং শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার।”
তার নির্বাচনী অঙ্গীকারে রয়েছে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, কৃষক-শ্রমিকের ন্যায্য মূল্য, প্রবাসী পরিবারের হয়রানি বন্ধ, তরুণদের কর্মসংস্থান, গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধান, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, মুন্সিগঞ্জে মেট্রোরেল ও গজারিয়ায় মেঘনা নদীর উপর সেতু নির্মাণ।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি হাসপাতালে আধুনিক সেবা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতা বন্ধের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে তার অঙ্গীকারে।
শেখ মো. শিমুল মনে করেন, এই নির্বাচন শুধু একজন প্রার্থী বেছে নেওয়ার নয়—এটি ভবিষ্যৎ বেছে নেওয়ার নির্বাচন। তিনি বলেন,
“ভোটের আগে-পরে সবসময় জনগণের পাশে থাকবো। অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাজপথে থাকবো, সংসদে থাকবো।”
মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে বিকল্প, মানবিক ও ইনসাফভিত্তিক রাজনীতির প্রতীক হিসেবে তিনি ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন—অন্যায় ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে, পরিবর্তনের পক্ষে—কোদাল মার্কায় ভোট দিন।