
মো. সুমন হোসেন:
মুন্সিগঞ্জ বাজারে উঠতে শুরু করেছে মৌসুমের রসালো ফল লিচু।প্রথম বাজারে আসায় দেশি লিচুর দাম বেশ চড়া। রবিবার মুন্সিগঞ্জ প্রাণকেন্দ্র কাচারী এলাকায় দেশি এই লিচু বিক্রি করতে দেখা যায়।অগ্রিম বাজারে আসায় কোনো কোনো ক্রেতা কিনলেও কিছুটা টক ও দাম বেশি হওয়ার কারণে কম বিক্রি হচ্ছে।সরেজমিনে মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে,মুন্সীগঞ্জ সদরের ফলপট্ট,িরিকাবীবাজার,মুন্সীহাট,সিপাইপাড়া,ধলাগাঁও বাজার ছাড়াও উপজেলার বাস টার্মিনাল সংলগ্ন বিভিন্ন সড়কের দুই পাশে লিচু বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।বছরের প্রথম ফল হিসেবে শখ করে বেশি দামেই কিনছেন অনেকে।রবিবার (১১মে)টংঙ্গীবাড়ী উপজেলার আলদীবাজারে লিচু কিনতে এসেছেন মো:পিন্টু।তিনি বলেন, ‘রাজশাহীর ছোট বনগ্রাম এলাকার লিচু এগুলো।এগুলো প্রতিবছরই প্রথমে ওঠে।এবারও উঠেছে।এখন স্বাদও মিষ্টি আছে।এবার বেশ ভালো লিচু বিক্রি হচ্ছে।প্রথম দিনে ১০০ লিচু বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৫০০ টাকা।লিচু বিক্রেতা ফরিদ উদ্দিন বলেন,সারা বছর আমি অন্য ব্যবসা করি।এসময় আম- লিচুর ব্যবসা করি।আজই প্রথম লিচু।তিন হাজার লিচু সকালে এনেছি।বাজারে প্রথম ওঠায় চাহিদা আছে।বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার লিচু বিক্রি হয়েছে।বাজারে লিচু কিনতে এসেছেন মোখলেসুর রহমান। তিনি বলেন,গত কয়েকদিন ধরে দেখছি বাজারে লিচু উঠেছে। দাম একটু বেশি।তবে টক হওয়ার ভয়ে কিনিনি।গতকাল কিছু লিচু কিনে নিয়ে গিয়েছিলাম।তবে প্রথম দিক হিসেবে স্বাদ তেমন একটা খারাপ নয়।তাই আজও কিনতে এসেছি।টংঙ্গীবাড়ী উপজেলার বালিগাঁও এলাকার শহিদুল ইসলাম বলেন,দেখে তো মনে হচ্ছে এখনো পুষ্ট হয়নি। তারপরও যেহেতু নতুন ফল বাজারে এসেছে,বাসার সবাই মিলে খাবো।এজন্য কিনলাম।
লিচু বিক্রেতা আব্দুল্লাহ জানান, ১শ’টি লিচু বিক্রি হচ্ছে ৪০০শ’ টাকায়।বাগানেই দাম বেশি হওয়ার কারণে কম দামে বিক্রির সুযোগ নেই।তবে বাজারে চাহিদা অনুযায়ী লিচুর আমদানি হলে দাম কিছুটা কমবে বলে ওই বিক্রেতা জানান।টক না মিষ্টি এমন প্রশ্নের জবাবে লিচু বিক্রেতা জানান,দেশি লিচু হওয়ায় খুব বেশি মিষ্টি নয়।কিছুটা টক হবে।কয়েকদিন পর যেগুলো বাজারে আসবে সেগুলো মিষ্টি বেশি হবে।
নাইমুল ইসলাম নামের এক লিচু ক্রেতা বলেন,বাজারে এই প্রথম লিচু এসেছে,তাই ৫০টি কিনলাম ২৫০ টাকায়।দাম কমায়নি বিক্রেতা।টক না মিষ্টি তা খেয়ে দেখা হয়নি।সূত্রে জানা গেছে, এই বছর রাজশাহীর ৯টি উপজেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকায় মোট ৫৩০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়েছে।আর লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৮শ’ মেট্রিক টন।এরমধ্যে বাগমারা উপজেলায় ১১৫ হেক্টর,পুঠিয়া উপজেলায় ৭৮ হেক্টর,পবা উপজেলায় ৭৫ হেক্টর,দুর্গাপুরে ৭০ হেক্টর, মোহনপুরে ৫২ হেক্টর,চারঘাটে ৪৫ হেক্টর,তানোর উপজেলায় ৩০ হেক্টর,বাঘা উপজেলায় ২৮ হেক্টর,মতিহারে ২০ হেক্টর ও গোদাগাড়ী উপজেলায় ১৯ এবং রাজশাহী মহানগরীতে ১০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়েছে।সবচেয়ে বেশি লিচু চাষ হয়েছে বাগমারা উপজেলায় ১১৫ হেক্টর জমিতে। এখান থেকে লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮২৫ মেট্রিক টন।সুত্রে আরো জানায়,আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি বছর রাজশাহীতে লিচুর আশানুরূপ ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। রাজশাহীর প্রায় সব উপজেলাতেই লিটু বাগান রয়েছে।তাই এই ফলের চাষ খুবই লাভজনক।তবে কোনো মৌসুমে ফলন একটু কম আবার কোনো মৌসুমে বেশি হয়।তবে প্রতিবছর লিচুর আবাদ বাড়ছে। দেশি লিচুর পাশাপাশি উচ্চফলনশীল চায়না-৩ এবং বোম্বে ও মাদ্রাজি জাতের লিচুর চাষ হচ্ছে।এখন রাজশাহীর কিছু কিছু জায়গায় বাড়িতেও লিচু চাষ করছে।এবার রাজশাহীতে লিচুর ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।কোনো দুর্যোগের কবলে না পড়লে কৃষকরা লাভবান হবেন। প্রতি বছর রাজশাহীতে লিচু চাষ বাড়ছে।লাভ হওয়ায় কৃষকরা লিচু চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।বাজারে লিচু পর্যাপ্ত পরিমাণে আসতে আরো কিছুটা সময় লাগবে।