
সিরাজদিখানে সূর্যমুখী চাষে আগ্রহ বাড়ছে, ফলন ভালো হওয়ায় আশাবাদী কৃষকরা
স্টাফ রিপোর্টার
সিরাজদিখান উপজেলায় সূর্যমুখী চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। কম খরচে লাভজনক হওয়ায় এবং সরকারি প্রণোদনার ফলে দিন দিন এই ফসলের আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে সূর্যমুখী ফুলের সৌন্দর্যে স্থানীয় সহ দূর-দূরান্ত মানুষ আসে ছবি তোলার জন্য। আর ছবি তুলতে গিয়ে সূর্যমুখীর গাছ নষ্ট করে ফেলে। এছাড়া ফুল ছিড়ে নেওয়ায় কৃষকের ক্ষতি হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এ চিত্র ফুটে ওঠে।
উপজেলার চোরমর্দন এলাকার কৃষক মো. আবুল কালাম জানান, এ বছর তিনি ৭০ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। মূলত তেল উৎপাদনের উদ্দেশ্যেই এই ফসল চাষ করেন। তিনি বলেন, এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ভালো লাভ হবে বলে আশা করছি। আগামী বছর আরও বড় পরিসরে সূর্যমুখী চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে চাষাবাদে কিছু সমস্যার কথাও জানান তিনি, সূর্যমুখীর ফুলের সৌন্দর্যের কারণে অনেক মানুষ ছবি তুলতে আসে এবং কেউ কেউ ফুল ছিঁড়ে নিয়ে যায় আবার কেউ গাছ নষ্ট করে ফেলে । এতে আমাদের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়, কারণ ফুল ছিঁড়ে নিলে তেল পাওয়া যায় না। এছাড়া ফুল পরিপক্ব হওয়ায় বর্তমানে টিয়া পাখির আক্রমণও দেখা যাচ্ছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সূর্যমুখী ফুল দেখতে আসা দর্শনার্থীরা জানান, এক সময় সিরাজদিখানে সূর্যমুখী চাষ খুব একটা দেখা যেত না। এখন উপজেলার কোনো না কোনো গ্রামেই সূর্যমুখী চাষ হচ্ছে। মাঠজুড়ে ফুটে থাকা হলুদ সূর্যমুখী ফুল দেখলে খুব ভালো লাগে। তাই সূর্যমুখীর জমিতে ছবি তুলতে তারা এখানে এসেছেন বলে জানান দর্শনার্থীরা।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাইদ শুভ্র বলেন, সূর্যমুখী একটি লাভজনক ফসল। তবে সিরাজদিখান উপজেলায় এখনো তুলনামূলক ভাবে কম কৃষক এই ফসলের চাষ করছেন। উপজেলা কৃষি অফিসের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বীজ ও সার বিতরণের মাধ্যমে সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৩০ জন কৃষকের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় ৫ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। দিন দিন কৃষকদের মধ্যে এই ফসলের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বলেও জানান তিনি।