
নিরাপত্তাহীনতা ও গ্রুপিংয়ের কারণে ভোট দিতে অনাগ্রহী অনেক ভোটার
এ জেড. এ মুকুল
মুন্সিগঞ্জ জেলার সদর ও গজারিয়া নিয়ে গঠিত মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক কেন্দ্র ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মেঘনা নদীতে বিভক্ত এ আসনে মোট কেন্দ্র সংখ্যা ১৬৯টি যার মধ্যে ১৩৫টি ঝুঁকিপূর্ণ। মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন, আধারা ইউনিয়ন, বাংলাবাজার ইউনিয়ন, চরকেওয়ার ইউনিয়ন, শিলই ইউনিয়ন, পঞ্চসার ইউনিয়নের কেন্দ্রগুলো অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে চরঅঞ্চলের কেন্দ্রগুলোতে কোন ধরনের সংঘর্ষে লাগলে দ্রুত সমাধান করার ব্যবস্থা নাই। সেনাবাহিনীকে নির্দেশনা দিলে কেন্দ্রে পৌছাতে প্রায় ১ ঘন্টার বেশি সময় লাগতে পারে। যার ফলে সাধারন ভোটাররা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পাশাপাশি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোঃ কামরুজ্জামান রতন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বহিস্কৃত বিএনপির সদস্য-সচিব মোঃ মহিউদ্দিন আহমেদ গ্রপিংয়ের দ্বন্দ্বের কারনে বেশিরভাগ ভোটাররা ভোট দিতে অনাগ্রহী। ভোটাররা চিন্তা করছেন, ভোট কেন্দ্রে গেলে তাকে চলার পথে তোপের মধ্যে পড়তে হবে কোন প্রার্থীকে তিনি ভোট দিয়েছেন এটা নিয়ে রাস্তাঘাটে নানাবিধ জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে কেউ কেউ।
বিগত ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের মুন্সিকান্দি এলাকায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় অস্ত্র হাতে গুলি করা ব্যক্তিদের মধ্য থেকে চারজনকে শনাক্ত করা গেলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে নাই। আওয়ামী লীগের সময় থেকে চলতি বছর পর্যন্ত গত আট বছরে মোল্লাকান্দিতে পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে প্রাণ গেছে অন্তত আটজনের। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের সময় তাদের দুই পক্ষের চারজন, অন্তবর্তীকালীন সরকারের এ সময়ে গত বছরের নভেম্বরে তিনজন এবং ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে একজন নিহত হন।
গত বছরের নভেম্বরে চরডুমুরিয়ার আরিফ মীর, রায়হান এবং বেহের কান্দি এলাকার তুহিন হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মধ্যমাকাহাটি এলাকার ছানা মাঝিকে, একই বছর মুন্সিকান্দি এলাকার ডালিম সরকার, ২০২৩ সালে মোল্লাকান্দির এলাকার তুহিন মাদবর, ২০২১ সালে নয়া আমঘাটা এলাকার জালার ব্যাপারী এবং ২০১৮ সালে চৈতারচর এলাকায় মানিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সদর থানা, ফাঁড়ি ও বিভিন্ন থানা থেকে মোট ২৩২টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ খোয়া যায়। যৌথ বাহিনীর অভিযানে ২০৭টি অস্ত্র উদ্ধার করা হলেও এখনো ২৫টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সামনে ভোটের মাঠে এখনো অবৈধ অস্ত্রের ছড়াছড়ি রয়েছে। নির্বাচনের বাকি রয়েছে আর মাত্র দুই দিন। দেশের সব নির্বাচনী এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের প্রচার এখন তুঙ্গে। একই সঙ্গে প্রার্থীদের সমর্থকরা নানাভাবে এলাকায় প্রভাব বিস্তারে তৎপর।
এতে বিরোধ থেকে প্রায়ই ঘটছে সংঘাত। ব্যবহৃত হচ্ছে অবৈধ অস্ত্র। ঘটছে খুনাখুনির মতো ঘটনা। এর মধ্যে সীমান্তপথে নানাভাবে অবৈধ অস্ত্রের আমদানির ঘটনা বাড়তি উত্তেজনা যোগ করেছে। অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, এখনো জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে উদ্বেগের বড় কারণ অবৈধ অস্ত্র। থানা ও ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া এসব আগ্নেয়াস্ত্র ভোটে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।