
সিজান হোসেন
জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন ফুলকুঁড়ি আসরের ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখা। শুক্রবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জ জেলা ফুলকুঁড়ি আসরের অস্থায়ী কার্যালয়ে কেক কাটা, আলোচনা সভা ও শিশুদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আতিকুর রহমান টিপু। বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ফুলকুঁড়ি আসর শিশুদের কাছে একটি গ্রহণযোগ্য ও পছন্দের সংগঠন হিসেবে কাজ করে আসছে। শিশুদের মানবিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শারীরিক বিকাশের পাশাপাশি ইসলামি মূল্যবোধ গড়ে তুলতেও সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি মুন্সীগঞ্জে ফুলকুঁড়ি আসরের কার্যক্রমের সফলতা কামনা করেন এবং শিশুদের শুভেচ্ছা জানান।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মুন্সীগঞ্জ জেলা ফুলকুঁড়ি আসরের সহকারী পরিচালক সাদ বিন দুলাল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুন্সীগঞ্জ জেলা ফুলকুঁড়ি আসরের পরিচালক সারোয়ার শরীফ সোহান।
সভাপতির বক্তব্যে সারোয়ার শরীফ সোহান বলেন, ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ ৫২ বছর ধরে ফুলকুঁড়ি আসর শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। তিনি ফুলকুঁড়ি আসরকে শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি তাদের অধিকার, নিরাপত্তা, সামাজিক মূল্যবোধ ও শরীরচর্চার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতেও শিশুদের কল্যাণে বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন ফুলকুঁড়ি আসর যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিশুদের মানসিক বিকাশ, খেলাধুলা, শরীরচর্চা এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সংগঠনটি তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে শিশুদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন ‘ফুলকুঁড়ি গেমস’ ও বিনোদনমূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এসব আয়োজনে শিশুদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
আয়োজকরা জানান, মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিশুদের নিয়ে ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন সামাজিক, শিক্ষামূলক, সাংস্কৃতিক ও শরীরচর্চামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুদের সুস্থ বিনোদন, সামাজিক মূল্যবোধ ও শারীরিক বিকাশে এসব কার্যক্রম ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতাও কামনা করেন আয়োজকরা।