
সম্পাদকীয়
যানজটের কারণে প্রায় সবসময় ভোগান্তিতে পড়ে পথচারী ও কর্মব্যস্ত মানুষরা। যানজট মানুষের মূল্যবান সময় কেড়ে নেয়। এতে দুর্ভোগে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। যানজটের শিকার সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ছাত্র, শিক্ষক, সরকারি-বেসরকারি কর্মচারী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এ কারণে শুধু আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নয়, অর্থনৈতিকেও প্রভাব ফেলে।
এ সমস্যা একদিনে সৃষ্টি হয়নি। এ জাতীয় সমস্যাটি সরকারি কর্তৃপক্ষগুলোর কাছে যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না। পথচারীদের অসচেতনতা, চালকদের ট্রাফিক আইন অমান্য করা, ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি, অপ্রশস্ত সড়ক, ফিটনেসবিহীন গাড়ির অবাধ চলাচল, ফুটপাথ দখল করে দোকানপাট বসানো, যেখানে সেখানে গাড়ি পার্কিং মুন্সিগঞ্জকে যানজটের নগরিতে পরিণত করেছে। এভাবে যানজট তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। উল্টো পথে গাড়ি চালানো ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও জরুরি।
এ সমস্যা নিরসনে অনেক সভা-সেমিনার হয়েছে, হয়েছে গবেষণা। দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চালানো হয়েছে সমীক্ষা। কিন্তু সমস্যা নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সামান্যই। প্রয়োজন ব্যাপক পরিকল্পনা ও এর বাস্তবায়ন। এ জন্য সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সবার উদ্যোগী ভূমিকা কাম্য।
অবৈধ গাড়ি পার্কিং, ফুটপাত দখল করে রাস্তা সংকীর্ণ করা থেকে জনগণকে বিরত রাখতে হবে। নাগরিক দায়িত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।
মোট কথা, যানজট শহরবাসীর মনোপীড়ার কারণ। যানজটে অপেক্ষায় থাকতে থাকতে শরীর ও মনে যে চাপ পড়ে, তার ফলে বিবিধ রোগে, মনোবিকারে আক্রান্ত হচ্ছে নগরের মানুষ। কর্মীমানুষ সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারে না। পণ্য পরিবহনে বিলম্ব হয়। এসবের সামষ্টিক প্রভাব অর্থনীতির ওপর পড়ছে। এ সমস্যার সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সমন্বয় জরুরি। প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ।