
এ.জেড.এ মুকুল
বাংলাদেশ থেকে মূলত ভ্যালেনসিয়া, ডায়মন্ড, সানশাইন, গ্রানোলা, কুম্ভীকা এবং ভারতের বিখ্যাত জাত যেমন: কুফরি পুখরাজ, কুফরি জ্যোতি, ও কুফরি বাহা ইত্যাদি জাতের আলু রপ্তানি হয়। এই জাতের আলু মূলত ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বা চিপস তৈরির উপযোগী এবং এগুলোর চাহিদা মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, মধ্যপ্রাচ্য ও জাপানে সবচেয়ে বেশি। এই জাতগুলো আকারে বড়, সমান এবং প্রক্রিয়াকরণের জন্য উপযুক্ত হওয়ায় রপ্তানির জন্য নির্বাচিত হয়। কিন্তু প্রান্তিক পর্যায়ে আলু চাষীরা জানেন না কোন জাতের আলু রপ্তানি হয় এমনকি আলু রপ্তানি নিয়ে কোন বিশেষ ধরনের উদ্যোগ দেখা যায়নি মুন্সিগঞ্জ জেলায়। অথচ বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি আলু উৎপাদন হয় এ জেলায়। তবে উত্তরাঞ্চলের কিছু জেলায় আলু রপ্তানিতে ক্ষেত্রে কিছু উদ্যোগ দেখা যায়। মুন্সিগঞ্জ জেলায় আলু রপ্তানিকৃত জাত উৎপাদন করলে কৃষকরা ন্যায্য দাম পাবেন বলে আলু উৎপাদনকারীদের বিশ্বাস।
বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় রপ্তানি হওয়া একটি পরিচিত জাত হলো কুম্ভীকা। রাজশাহীর এই জাতটি বর্তমানে মালয়েশিয়াসহ বিদেশে যাচ্ছে। কুফরি পুখরাজ হলো মাঝারি থেকে বড়, সোনালি, মসৃণ ত্বকযুক্ত। কুফরি জ্যোতিতে সহজে রান্না হয়, মোমযুক্ত (waxy) টেক্সচার। কুফরি বাহারে সাদা, বড়, গোল-ডিম্বাকৃতি, ভালো রান্নার গুণাবলী সম্পন্ন। কুফরি পুখরাজতে চিপস ও ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের জন্য সেরা, রান্নার পর রঙ পরিবর্তন হয় না। অন্যান্য জনপ্রিয় বৈশ্বিক জাত হিসেবে রাসেট (Russet), ইউকন গোল্ড (Yukon Gold), লাল আলু (Red Potatoes) ইত্যাদি বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয়, যা বিভিন্ন ধরনের খাবারের জন্য ব্যবহৃত হয়।
সাম্প্রতিক সময়ের ভারত-পাকিস্তান সংকটের মধ্যে পাকিস্থানে আলু রপ্তানি আরও কমে গেছে। প্রতিযোগী দেশটির রপ্তানি কম হওয়ার সুযোগটা কাজে লাগাতে পারে বাংলাদেশ। এতে করে মালয়েশিয়া, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলোর বাজারের যে বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে তা পূরণে বাংলাদেশ থেকে এ বছর বাড়তি আলু রপ্তানির কোন নির্দিষ্ট কোন পদক্ষেপ দেখা যায় নি।
বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য মতে,২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের আলু রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা প্রায় ৬২,০০০ থেকে ৬৪,০০০ মেট্রিক টনে পৌঁছেছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ, মূলত ভালো ফলন ও স্থানীয় বাজারে দাম কম থাকায় এই প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তাছাড়া ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩২ হাজার ৩৯২ মেট্রিক টন, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৬২ হাজার ৭২৬ মেট্রিক টন, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫১ হাজার ৭৬৩ মেট্রিক টন রপ্তানি হয়েছিল।
বাংলাদেশের আলু বর্তমানে ১৪টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে বেশি আলু রপ্তানি হচ্ছে মালয়েশিয়াতে। আগেও অবশ্য রপ্তানির আশি ভাগই যেত মালয়েশিয়াতে। এছাড়া সিঙ্গাপুর, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, বাহরাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে আলু রপ্তানি হচ্ছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গত বছর রাশিয়া বাংলাদেশের আলু নেওয়ার কথা থাকলেও এখনো দেশটিতে রপ্তানি করতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। বাস্তবে, রপ্তানি উপযোগী জাতের আলুর চাষ এখনো সীমাবদ্ধ। পাশাপাশি শিল্পে ব্যবহারযোগ্য আলুর জাত সম্প্রসারণে করা প্রয়োজন। মুন্সিগঞ্জের মৃক্তিকা যেহেতু আলু চাষের জন্য বেশি উপযোগী। সুতরাং এখানে হতে পারে আলু চাষের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরন জোন। আশা করি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কৃষি মন্ত্রণালয় মুন্সিগঞ্জের রপ্তানিকৃত আলুর বিষয়ে বিশেষ বিবেচনা করবেন।