
আব্দুস সালাম
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে—মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের লড়াই এবার আর সোজাসাপ্টা নয়। দীর্ঘদিন ধরে শক্ত অবস্থানে থাকা বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীর উপস্থিতি এই আসনের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এর মধ্যেই নীরবে ঘাঁটি শক্ত করছে জামায়াত-সমর্থিত ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী যা ভোটের ফলাফলে নাটকীয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কামরুজ্জামান রতন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাঠে থাকলেও একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী মহিউদ্দিন ফুটবল প্রতীক নিয়ে সক্রিয় থাকায় ভোটব্যাংক বিভক্ত হওয়ার বাস্তব শঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিভাজন শুধুই দলীয় দুর্বলতা নয় বরং এটি প্রতিপক্ষের জন্য সুযোগের জানালা খুলে দিয়েছে।
এই সুযোগ কাজে লাগাতে তৎপর জামায়াত-সমর্থিত ১০ দলীয় জোট। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুফতি নূর হোসাইন নুরানী রিকশা প্রতীক নিয়ে প্রকাশ্য সংঘাত এড়িয়ে নীরব ও পরিকল্পিত প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চকণ্ঠ রাজনীতির পরিবর্তে ‘লো-প্রোফাইল’ কৌশলই তাঁকে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।
ভোটারদের মনোভাব বিশ্লেষণে উঠে এসেছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। অতীতের সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতি, ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তরুণ ও ভাসমান ভোটারদের মধ্যে স্পষ্ট বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেলকেন্দ্রিক আধিপত্যবাদী রাজনীতি এখন অনেকটাই অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করছেন তারা।
তরুণ ভোটার রাজু আহমেদ বলেন, আমরা পরিবর্তনের কথা বলি, কিন্তু সেই পরিবর্তন হতে হবে আচরণ আর রাজনীতির ধরণে। ভয় দেখিয়ে বা ক্ষমতার দাপটে ভোট আদায়ের সময় শেষ।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে দলীয় আনুগত্যের চেয়ে ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, ভাবমূর্তি ও তরুণ ভোটারদের আস্থা বেশি গুরুত্ব পাবে। ফলে দলীয় কোন্দল, নেতিবাচক ইমেজ ও সাংগঠনিক দুর্বলতা যেকোনো শক্তিশালী প্রার্থীকেও বিপাকে ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের নির্বাচন এখন শুধু দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয় বরং এটি পরিণত হয়েছে রাজনৈতিক কৌশল, ভোটার মনস্তত্ত্ব ও শেষ মুহূর্তের সমীকরণের এক জটিল পরীক্ষায়। শেষ পর্যন্ত এই পরীক্ষায় কে টিকে থাকবে, তা নির্ধারণ করবে ভোটারদের নীরব কিন্তু শক্ত সিদ্ধান্ত।