
জগতবিখ্যাত বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু ১৮৫৮ সালের ৩০শে নভেম্বর ব্রিটিশ ভারতের বিক্রমপুরের (বর্তমান মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলায়) রাড়িখাল গ্রামে তার পরিবারের প্রকৃত বাসস্থান ছিল। তাঁর পৈতৃক ভিটায় স্থাপিত ‘জগদীশচন্দ্র বসু কমপ্লেক্স ও স্মৃতি জাদুঘর’ (২০১১ সালে নির্মিত) যা তাঁর জীবন ও কর্মের স্মারক। এই জাদুঘরগুলো বিজ্ঞানীর যুগান্তকারী আবিষ্কার, গবেষণা, এবং তাঁর জীবনীর নানা দিক তুলে ধরে। তরুণদের উচিত জগদীশচন্দ্র বসুর মূল অবদানগুলো বিষয়ে ধারনা নিয়ে নতুন ধরনের আবিস্কারের দিকে যাওয়া।
মূল অবদান ও গুরুত্ব:
তিনি প্রথম সেমিকন্ডাক্টর জাংশন ব্যবহার করে বেতার তরঙ্গ শনাক্ত করেন এবং মাইক্রোওয়েভ নিয়ে গবেষণা করেন, যা আজকের বেতার ও ওয়াইফাই প্রযুক্তির ভিত্তি। ক্রেস্কোগ্রাফ নামক যন্ত্র আবিষ্কার করে প্রমাণ করেন যে উদ্ভিদেরও সংবেদনশীলতা ও অনুভূতি আছে, যা উদ্ভিদ ও প্রাণীজগতের মধ্যেকার সাদৃশ্য তুলে ধরে। ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যবহারিক ও গবেষণাধর্মী বিজ্ঞানের সূচনা তার হাত ধরেই হয়। তিনি প্রথম দিকের কল্পবিজ্ঞান রচয়িতাদের মধ্যে অন্যতম।
অকৃত্রিম বিজ্ঞানী: বাণিজ্যিক লাভের পরিবর্তে তিনি তার আবিষ্কার জনকল্যাণে উন্মুক্ত করে দেন, যা তার মহত্ত্বের পরিচয় দেয়।
সারা বিশ্ব যেখানে বিজ্ঞানের দিকে এগিয়ে যায়। আমরা কেন পিছিয়ে যাচ্ছি তা আমার জানা নাই। তবে নিজ ভূমিতে তার জম্মদিন ও মৃত্যু বার্ষিকীতে তার জীবন ও কর্ম নিয়ে কোন আলোচনা সভা না থাকা সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয়। অথচ এ স্থানটি হতে পারতো বিজ্ঞানের নানা সভা ও সেমিনার। স্যার জগদীশচন্দ্র বসু শুধু বিক্রমপুরের গর্ব নয়, তিনি আর্ন্তজাতিক বিজ্ঞানী হিসেবে স্বীকৃত। তার নামে পৈতৃক ভিটায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমি ইতোমধ্যে জানতে পেরেছি গত ৭ জানুয়ারী, ২০২৬ইং মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের বিএনপির এমপি প্রার্থী শেখ মোঃ আবদুল্লাহ কাজটি এগিয়ে নেওয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রনালয়কে চিঠি দিয়েছেন। আশা করি, সকলের প্রচেষ্টায় দীর্ঘদিনের দাবিটি আগামিতে বাস্তবে রুপ নিবে।