
আসিফ বাঁধন
বিক্রমপুরের মাটি এমন এক মাটি, যেখানে জন্ম নেয় কবি, সাহিত্যিক, সংগঠক আর সংগ্রামী মানুষেরা। এই মাটির গন্ধে আছে ইতিহাস, ঐতিহ্য, আর আছে সত্যের জন্য লড়াই করার শক্তি। আমি, আসিফ বাঁধন একজন সাধারণ যুবক, তখনো জানি না সংগঠন কী, সাংবাদিকতা কাকে বলে, কিংবা কলম কিভাবে সমাজ বদলের হাতিয়ার হতে পারে।
একদিন হঠাৎ করেই ফেসবুকের নোটিফিকেশনে চোখ গেল একটি অচেনা আইডি থেকে মেসেজ এসেছে”কেমন আছেন?”
আমি ভদ্রভাবে উত্তর দিলা”আলহামদুলিল্লাহ ভালো, আপনি কেমন আছেন?”
ওপাশ থেকে উত্তর এল”ভালো আছি, ধন্যবাদ।”
কিছুক্ষণ পরে, তিনি নিজেকে পরিচয় করিয়ে দিলেন “আমি আশরাফ ইকবাল, ঝিকুট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা।”
শব্দটা শুনে থমকে গেলাম ঝিকুট? আমি এমন নাম আগে শুনিনি। কৌতূহল ভরে জিজ্ঞাসা করলাম “ঝিকুট মানে কী?”
তিনি ধীর কণ্ঠে বললেন “ঝিকুট মানে জ্ঞান, মস্তিষ্ক, মেধা।”
আমার কৌতূহল আরও বেড়ে গেল। তখনো বুঝি না, একটি সংগঠন আসলে কী কাজ করে। তিনি বলতে লাগলেন “আমাদের সংগঠনের মূলত শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করে। সমাজকে জানানো, জাগানো, আর মানুষকে সচেতন করা।”
আমি তখন শুধু শুনছি, কিন্তু মনে মনে ভাবছি এত বড় কাজ করা কি আমার মতো সাধারণ ছেলের পক্ষে সম্ভব? এরপর প্রায় প্রতিদিনই আমাদের কথাবার্তা হতে লাগল। ধীরে ধীরে মনে হল, এই মানুষটার ভেতরে যেন আলাদা এক আলো আছে—সত্যের আলো।
একদিন তিনি বললেন”বাঁধন, সংগঠন মানে শুধু কিছু লোকের আড্ডা নয়, এটি হলো মানুষের কল্যাণের জন্য একসাথে কাজ করা।”
“কিন্তু ওস্তাদ, আমি তো এসব কিছু জানি না…”
“জানবে, শিখবে। যদি তোমার ভেতরে ইচ্ছে থাকে, আমি তোমাকে শেখাবো।”
ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল একজন এডভোকেট হওয়ার। কিন্তু আশরাফ ইকবালের কথা, কাজ আর তার সত্যবাদী মনোভাব আমাকে টেনে নিয়ে গেল আরেক পথে—সাংবাদিকতার পথে।
একদিন তিনি সরাসরি বললেন”তুমি কি জানো, সাংবাদিকতা শুধু খবর লেখা নয়, এটা হলো সমাজের চোখ আর কণ্ঠস্বর হওয়া।”
আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম”কিন্তু আমি তো লিখতে পারি না…”
তিনি হেসে বললেন”লিখতে শেখা যায়, কিন্তু সত্যের জন্য দাঁড়ানোর সাহস শেখানো কঠিন। তোমার মধ্যে সেই সাহস আছে।”
সেদিনই বুঝলাম, আমি নতুন এক যাত্রায় পা রাখতে যাচ্ছি।
আশরাফ ইকবাল শুধু আমাকে নয়, অনেককেই সাংবাদিকতা শিখিয়েছেন। তিনি শিখিয়েছেন”সত্যকে ভয় পেয়ো না, কলমকে অন্যায়ের কাছে বিকিয়ে দিও না।”
তার হাত ধরে আমি প্রথম রিপোর্ট লিখলাম। প্রথম দিন সংবাদপত্রে আমার নাম দেখে চোখে পানি এসে গিয়েছিল। মনে হচ্ছিল, আমি সত্যিই রাষ্ট্রের জন্য কিছু করতে পেরেছি।
আমাদের সম্পর্ক আর শিক্ষক-শিষ্যের সীমাবদ্ধতায় ছিল না—এটি পরিণত হয়েছিল এক গভীর বন্ধনে, যেখানে মায়া, ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে।
আজ আমি শুধু একজন সাংবাদিক নই, আমি একজন সংগঠকও। ঝিকুট ফাউন্ডেশনের নানা কার্যক্রমে আমি যুক্ত, মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করছি। যদি সেদিন সেই অচেনা আইডি থেকে মেসেজ না আসত, তবে হয়তো আমি আজও বুঝতাম না, সংগঠন কী, সাংবাদিকতা কী বা সত্যের পথে হাঁটার সাহস কাকে বলে।
আশরাফ ইকবাল শুধু আমার ওস্তাদ নন, তিনি আমার জীবনের পথপ্রদর্শক, যিনি আমাকে শিখিয়েছেন, “জীবন শুধু নিজের জন্য নয়, অন্যের জন্যও বাঁচতে হয়।”
আমি এই ছোট্ট গল্পটি উৎসর্গ করলাম আমার ওস্তাদ আশরাফ ইকবালকে—একজন প্রকৃত কলম সৈনিককে।