1. tayranabir2@gmail.com : Tayran Abir : Tayran Abir
  2. admin@munshiganjerbarta.com : admin :
  3. sayedhasanafran@gmail.com : Sayed Afran : Sayed Afran
  4. hmalamimkhan@gmail.com : al amin : al amin
  5. mdaniksheikh95@gmail.com : Anik Sheikh : Anik Sheikh
  6. asifbadhon43@gmail.com : Asif Badhan : Asif Badhan
  7. jharnacomputercenter@gmail.com : Barshan Mohammod : Barshan Mohammod
  8. fjony7699@gmail.com : Forhat Jony : Forhat Jony
  9. lemonrep@gmail.com : Naser Lemon : Naser Lemon
  10. sheikhforidpolok4@gmail.com : Sheikh Polok : Sheikh Polok
  11. rhraju88994@gmail.com : Muhammad Raju : Muhammad Raju
  12. mdsejankhan12345@gmail.com : Md Sejan Khan : Md Sejan Khan
বাবার স্পর্শ : বাউল সাজু - দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তা
মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:১২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
জেলা পুলিশের পরিদর্শক মোফাজ্জল হোসেনের বিদায় সংবর্ধনা লৌহজংয়ে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত লৌহজংয়ের বেজগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি বরাদ্দের সুষম বণ্টনের দাবিতে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ ও মানববন্ধন  সিরাজদিখানে গণসংযোগে আসছেন নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আবদুল্লাহসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা কবি ও সংগঠক বাপ্পি সাহা : সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের এক নিবেদিত মুখ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ব্যাপারে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না : মুন্সীগঞ্জ জেলা আমির আ জ ম রহুল কুদ্দুস সিরাজদিখানের কৃতি সন্তান রমজান আহমেদের অনন্য অর্জন, দ্বিতীয়বারের মতো সম্পন্ন করলেন ৫০ কিলোমিটার আল্ট্রা রান লৌহজংয়ে আগ্নিকান্ডে তিনটি বসতঘর ভস্মীভূত  মুন্সিগঞ্জে ৮৫ বছরের বৃদ্ধা দাদীর হেলিকপ্টারে চড়ার সখ পুরন করলো প্রবাসী নাতি  মুন্সিগঞ্জে সততার অনন্য ও উজ্জল দৃষ্টান্ত স্হাপন করলো চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী সমুদ্র সাহা 

বাবার স্পর্শ : বাউল সাজু

দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তা ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৫
  • ৭৯ বার পঠিত
father's touch

বাবার হাতটি ধরতে মন খুব আকুপাকু করছে। উথাল-পাতাল করা ইচ্ছে, বাধা না মানা বয়সের অদম্য ইচ্ছে, যে প্রত্যাশাকে দমন করার সাধ্য কারো নেই। আকাঙ্ক্ষাটা ডানা মেলে আকাশে উড়তে পারছে না কৈশোর পেরুনো বয়সের দ্বিধা নামক লজ্জা। যে বয়স ইচ্ছে পূরণ করতে চায় একা। কোনো সাক্ষী রেখে কাজ করে না। বাধা ডিঙ্গানো সহজ নয়, তবু আমি সে প্রতিরোধ অতিক্রম করতে চাই। ময়ূর পেখমের আলতো ছোঁয়া চাই। যে ছোঁয়ার রেশ রয়ে যাবে শরীরের প্রতিটি রেণুতে। অনুভব করতে চাই অনাদিকাল ধরে। ছড়িয়ে পৌঁছে যাবে মস্তিষ্কে। পরক্ষণে লজ্জায় রাঙা হয়ে উঠছে আমার ফর্সা দুটো গাল। বয়স আমার খুব বেশি হয় নি। বারো পেরিয়ে তেরোতে পা দিয়েছি কেবল। বছর পূর্ণ হতে এখনো ঢের বাকি। শরীরের পরিবর্তনের সাথে সাথে মনের চোখে রঙ লেগেছে। রঙিন চোখে পৃথিবী দেখতে শুরু করছি হঠাৎ করে। অবচেতন মন আমার হাতটিকে লম্বা করে বাড়িয়ে দিচ্ছে। আমি জোর করে গুটিয়ে নিচ্ছি বাড়ানো হাত। জমির আইল ধরে হেটে যাচ্ছি বাপ-ছেলে। মন ব্যস্ত থাকাতে বারবার হোচট খাওয়ার পরিস্থিতি হচ্ছে। চিকন আইল থেকে পা পিছলে যাচ্ছে। বাড়ানো হাত পিছলে যাওয়ার পায়ের সহযোগিতায় ছুঁয়ে দেয় বাবার চলন্ত হাতটি। বাবার বেশ বয়স হয়েছে। দাঁড়িয়ে পড়েন বাবা। চুরি করে ধরা পড়া চেহারা নিয়ে মাথা নিচু করে রেখেছি। খানিকটা অসহায়ত্ব। কৈশোরের সীমাহীন লজ্জা ভর করেছে।

আমি চোখের দিকে না তাকিয়েও দেখতে পাচ্ছি সেই অপার্থিব আলো। সারাক্ষণ জ্বলজ্বল করতে থাকে বাবার চোখ দুটোতে। স্নেহের আলো কেবল বাবাদের চোখেই জ্বলে। শরীরের অসুস্থতা চোখ স্পর্শ করতে পারে নি। আমার হাতটি টেনে নেন বাবা।
— বাপজান, পোলা কোনো সোময় বাপের কাছে বড় অয় না। তুই যহন তর পোলারে হাত ধইরা হাটতে শিখাইবি তহন বুঝবি। বাপের হাত কতটা আস্থা রাখার জায়গা।
বাপ আমার মাঝে মধ্যে শুদ্ধ করে কথা বলার চেষ্টা করে। আমি খুব উপভোগ করি বাপের শুদ্ধ কথা বলার চেষ্টাকে। বাপের চোখের অপার্থিব আলোটা দেখতে খুব ইচ্ছে হচ্ছে। কিন্তু ঝাপসা চোখে সে আলো দেখে তৃপ্তি নেই। চোখের পাতা দুটো ভিজে উঠেছে অকারণেই। বাবার ঘোলাটে চোখ ঠিকই টের পেয়ে যায়। আমার মাথাটা টেনে বাবা তার বুকে নেন। আমার হাত দুটো মরা সাপের ন্যায় ঝুলছে বাপের শরীরের পাশে। অথচ খুব ইচ্ছে হচ্ছে একটু জড়িয়ে ধরতে। ইচ্ছেটা ডানা মেলি মেলি করেও মেলছে না।


আরও পড়ুন : সংগঠক ও সংগঠন নিয়ে আশরাফ ইকবালের ভাবনা


বারো তেরো বছর বয়সটা মানব জীবনের চৌরাস্তার মোড়। প্রধান রাস্তার পাশাপাশি অসংখ্য শাখা রাস্তা ওৎ পেঁতে আছে। উড়তে থাকা সবজান্তা কিশোরকে আহ্বান করে শ্রুতিমধুর সুরে। বাবার হাত ধরে চষা খেতের উপর দিয়ে খালি পায়ে হেটে চলছি। বাবা আইলের উপর দিয়ে চলছেন। পায়ের নিচে শক্ত মাটির ঢেলা আমাকে আঘাত দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। বাবার হাত হয়ে ভালোলাগার অনুরণন সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে। ভালোলাগা নামের নেশার চূড়ান্ত পর্যায়ে আছি আমি। চরম কামনার সিগারেটের দুয়েক টান নস্যি এ নেশার কাছে। মরফিন, মারিজুয়ানা, হেরোইন কিংবা আইস, কোনোটাই এ নেশার সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে না, পারে নি কখনো। নেশায় বুদ হয়ে পথ চলছি হাওয়ায় ভেসে ভেসে। পা দুটো মেঘের ভেলায় চড়ে ভেসে চলছে। মানব জীবনের সেরা সময় হতে পারে বাবার সান্নিধ্য। এ বয়স ভালোলাগার, এ বয়স অবহেলার। অবহেলা নামের নোংরা আবর্জনা সরিয়ে ভালোলাগার আস্তরটাকে ফুঁটিয়ে তুলতে পারলে, রঙিন চোখ সব ভালোবাসে। কোন পঙ্কিলতা সে চোখকে টানতে পারে না।

— বাজান, বাজারে আইয়া পড়ছি ত।
নেশা আমার কাটতেই চায় না। আমি নেশা কাটিয়ে বেরিয়ে না আসার চেষ্টা করছি। আমি বাবার স্পর্শ চাই আরো আরো। আমি উদাস নয়নে এদিক ওদিক তাকাতে থাকি। আমার প্রায় মেয়েলি গোলাপী গাল সহ গোলগাল মুখটি বাবা করতলে তোলে নেন। বাবার চোখে সেই অপার্থিব আলো নিভে আসে। সেখানে উদ্বিগ্নতা ফুটে আছে। আমি আরো স্পর্শ চাই বাবার। চিরাচরিত মধুর কণ্ঠ শংকায় ভরা।
— বাজান কি অইছে তর?
প্রশ্ন করে জড়িয়ে ধরেন আচমকা। বাপ আমার শুদ্ধ উচ্চারণে কথা বলার ওয়াদা ভুলে গেছে। আমি মনেপ্রাণে এটাই কামনা করছি। ফর্সা গোলাপী গাল, চিবুক, কপাল বাবার ঠোঁটের স্পর্শে শীতল হতে থাকে। আমি সাইবেরিয়াতে দাঁড়িয়েও এতোটা কম্পন অনুভব করব না, যা অনুভব করছি ভালোবাসার অদৃশ্য ছোঁয়ায়। কাঁপছি ভালোলাগায় বিরতিহীন। বরফ আচ্ছাদিত প্রান্তরের সাধ্য হবে কি, শরীরে এমন কাঁপন তোলার?

আমার ভালোলাগার কম্পন বাবার মনে ভয়ের পাহাড় তৈরি করে। ঝট করে হাটু মুড়ে বসে পড়ে বাবা আমার সামনে। শক্ত করে জড়িয়ে ধরে রাখেন। শরীরের কাঁপুনি মিশে যেতে থাকে বাবার শরীরের চামড়া ভেদ করে। কাঁপাকাঁপি সংক্রমিত হতে শুরু করেছে। বাবার সমস্ত শরীর থরথর করে কাঁপছে। আমি কাঁপছি ভালোলাগার নেশায়, বাবা কাঁপছে শংকা আর ভয়ে। একমাত্র সন্তানের সুস্থতা বাবার বেঁচে থাকার চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ। আমি আরো স্পর্শ চাই, আরো, আরো। আমি ভালোবাসার নেশা ছিড়ে এখন বেরিয়ে আসতে পারছি না। শুরুতে বেরুতে চাই নি। আমি নিমজ্জিত হচ্ছি ভালোলাগা নামের সুখের সমুদ্রে। আমাদের ঘিরে মানুষ জমায়েত হচ্ছে। আমার ভ্রুক্ষেপ নেই সেদিকে। আমি বাবার ভালোবাসা চাই। এমন নয়, বাবার ভালোবাসা আমি কদাচিত পাই। কী এক ভালোলাগা আমাকে বুদ করে রাখে। বাবার কান্নাভেজা কণ্ঠ কানে আসে।

— বাজান, কি অইল তর? তর মার কাছে আমি কি জবাব দিমু?
কান্নাভেজা কণ্ঠ এবং মাকে মনে করিয়ে দেয়া ভালোলাগার অতল থেকে বেরিয়ে আসতে সহযোগিতা করে। আমি কানায় কানায় পূর্ণ ভালোবাসায়। কোন ভালোবাসার তুলনা হয় না এর সাথে। কখন চোখ দুটোতে বর্ষণ শুরু হয়েছে বুঝতে পারি নি। বাবা চুমোয় চুমোয় ভরিয়ে দিচ্ছেন আমাকে। দশ হাজার মিটার দৌড়ের মতো বিরতিহীন চুমো দিয়ে যাচ্ছেন। ঝাপসা চোখে প্রশস্ত কপাল দেখতে পাচ্ছি। কপালটা মাথার পেছন দিকে ঠেকেছে চুল উঠে গিয়ে। এলোমেলো পাটের আঁশের ন্যায় কয়েক গাছি চুল মাথার পেছন দিকে। বাবার মাথায় চুল না থাকা নিয়ে আমার আক্ষেপের সীমা ছিল না। অথচ পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মানুষটির প্রশস্ত কপালে আমার ঠোঁট জোড়া চেপে বসে।

চোখের নোনা জল আমার ঠোঁট ভিজিয়ে দিয়েছে। ভেজা ঠোঁট জোড়া চুম্বকের ন্যায় চেপে বসে আছে বাবার বলিরেখায় ভরপুর কপালে। বাবা জড়িয়ে ধরে রেখেছেন আমাকে। যুগ যুগ কেটে যায় স্বর্গীয় দৃশ্য সৃষ্টিতে। আশেপাশের মানুষের চোখে শংকা ফুটে উঠেছিল প্রায়। সেখানে এখন অপার মুগ্ধতা। বাবার কপাল থেকে ঠোঁট জোড়া আলাদা করতে আমাকে কসরত করতে হয়। বাবার চোখের দিকে তাকিয়ে ভালোলাগায় ভরে উঠে মন। সেই অপার্থিব আলো ফিরে এসেছে বাবার চোখে, যে আলোর সন্ধান কোনো সন্তান একবার পেলে, জনম জনম সে আলোয় বুদ হয়ে থাকবে। তার জীবনে আর কোনো কিছুর প্রয়োজন হবে না। বাবা আমাকে নিয়ে হাটা শুরু করেন। আমার লজ্জা, শংকা কোথায় হারিয়েছে কিছুটা সময়ের ব্যবধানে। বন্ধুরা আমাকে দুদু খাওয়া বাবু বলবে, আমার বইয়েই গেছে সে সব তোয়াক্কা করতে।

বেশ কয়েকটি দোকান ঘুরে ঘুরে লাল হলুদ ছোপের কাপড় দিয়ে সার্ট বানাতে দিই। মূলত একটি নতুন সার্ট বানাতেই বাবার সাথে বাজারে আসা। বাবার সাথে কোথাও বের হতে লজ্জা হতো। দর্জির কাছে সার্ট বানাতে দিয়ে বাবার দোকানে এসে বসি। অন্যান্য দিনের ন্যায় বসে থাকি না। কাস্টমারের প্রতিটা চাহিদা পূরণের চেষ্টা করি। বাবা মুগ্ধতা নিয়ে আমাকে দেখেন। সেই অপার্থিব আলোর পাশাপাশি একরাশ তৃপ্তি ফুটে থাকে বাবার দৃষ্টিতে। উদ্দীপনায় টগবগ করে ফুটছি আমি। কাজ করে এতো আনন্দ কখনো পাইনি। বাবা অনেকদিন যাবত অসুস্থ। মায়ের শাসন, তোষামোদ কোনোটাই আমাকে দোকানে বসাতে পারে নি। বন্ধুদের নিয়ে হল্লা করে কেটেছে আমার দিন।

বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান হবার সুবিধা কড়ায়গন্ডায় উপভোগ করছিলাম। স্কুল ফাঁকি দিয়ে বন্ধুদের সাথে আড্ডাটাই ছিল মূল লক্ষ্য। আচম্বিত স্পর্শ আমাকে পরিণত করে দেয়। স্কুল পালানো বাদ দিয়ে স্কুলের আগে এবং পরে বাবার সাথে কাটে আমার সময়। বাবার চেয়ে বড় বন্ধু কেউ হতে পারে না। কত অজানা গল্প জমা ছিল বাবার। কাছে না আসলে জানা হতো না কখনো। বাবা অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হন। আমি স্কুল বাদ দিয়ে দোকানে বসি। স্কুল কিংবা বন্ধুদের কথা কখনো মনের কোণে উদয় হয় না। সারাক্ষণ সেই অপার্থিব আলোময় চোখ দুটো ভেসে বেড়ায়। কাস্টমারের কটু কথাও আমাকে স্পর্শ করতে পারে না। বাবার স্পর্শ শরীরের লোমকূপ ভেদ করে আশ্রয় নিয়েছে অন্তরে।

স্রষ্টার বিধান মেনে নিতে হয়। ভালোবাসা পাবার সুযোগ এলে, তাকে লুফে নিতে হয়। আমি নিতে পেরেছি বাবার ভালোবাসা। দোকানে বসে ভাবছি। কেন অল্প কিছুদিন বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে দূরে থেকেছি? একমাত্র মামার ডাকে ভাবনার জাল ছিড়ে বেরিয়ে আসি।
— সুজা, তোর বাবার শরীর খারাপ করছে, চল, বাড়ি যাইতে হইব।
আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। চোখের সামনে অন্ধকার ঘনিয়ে আসে। ঝটপট দোকান বন্ধ করে বাড়ির দিকে দৌড় দিই। এক দৌড়ে বাড়ি পৌঁছি। ঘরে ঢুকেই থমকে দাঁড়াই। সেই অপার্থিব আলো আমি আর কখনো দেখতে পাব না। একটি চাদর দিয়ে বাবাকে ঢেকে রেখেছে। কেউ একজন আমাকে বলে,
— শেষবারের মতো বাবাকে দেখে ছুঁয়ে দিয়ে যা।

আমি ছিটকে বের হয়ে আসি। পা দুটো দৌড় দিতে মুখিয়ে আছে। বিভিন্ন বাক্য আমার কানে ভেসে আসছে।
— কিমন পোলারে বাবা, বাপরে শেষ দেখা দেখব না।
— বেশি লাই দিলে ইমনই অয়।
এমনি কিছু বাক্য আমাকে পীড়া দিচ্ছে। এমনি সময়ে দুটো হাত আমাকে জড়িয়ে ধরে। কানের কাছে নিষ্কম্প স্বরে বলে,
— বাজান, আমি আছি ত।
পাশ ফিরে চেয়ে দেখি মা জড়িয়ে ধরেছে। অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি মায়ের চোখে। সেই অপার্থিব আলো মায়ের চোখে, যা কখনো চোখে পড়ে নি। মাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠি।
— মা, আমি বাবার সেই ভালোবাসার স্পর্শটুকু নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই।

 

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর