
মইজ্জা পাগলা
আবদুর রহমান সিরাজী
কথা ছিল অনেক কিন্তু কিছুই বলা হলো না ,
যেখানে ছিল ” মইজ্জা পাগলা” র ঘর-
সেখানে এখন অথৈ জলরাশি
পদ্মার কড়াল গ্রাস ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে
মইজ্জা পাগলার ঘর, ভিটেমাটি , পোয়াতি বউ।
তারপর , তারপর…
সময়ের বিবর্তনে মজিদ হয়ে যায় মইজ্জা পাগলা ।
আমি অনেক খুজেছি , শরীয়তপুরের আনাচে কানাচে
মাওয়ার ঘাটে , শামুর বাড়ির অদূরে নলখাগড়ার ঝোপে
মধ্য চড়ের আদারে বাদারে খুজে খুজে ক্লান্ত!
এখন নিরাশ হয়ে দাড়িয়ে থাকি পদ্মার পাড়ে
একদৃষ্টিতে , যেখানে ছিল মজিদ চাচার ঘর ।
সে আমাকে এমন গল্প শুনিয়েছিল যা
কখনো শুনিনি কারো কাছে , কোন কিতাবে ,
ভরা যৌবনে পদ্মা পারের জেলেপল্লীর ভানুমতি নাকি তাকে অসম্ভব ভালবাসতো , বিয়েও হয়
পদ্মার চোরাবালি একরাতে গ্রাস করে মজিদের টংঘর
সাথে পোয়াতি বউ।
ঘুর্ণিজলে পাগলের মতো খোজাখুজি করেও লাভ হয়নি
ভাঙন বেয়ে তীরে উঠে ঠায় দাড়িয়ে মজিদ
পদ্মাপাড়ের আকাশে বাতাসে মজিদ চাচার বিলাপ
ভানুমতি, হায় ভানুমতি ।
এরপর থেকে মজিদ চাচা হয়ে যায় “মইজ্জা পাগলা” ।
আমি তাকে খুজি, এখনো খুজি …
শরীয়তপুর মাওয়া ঘাটে, শামুর বাড়ির অদূরে নল খাগড়ার ঝোপে…