
চিঠি দিও
রমজান মাহমুদ
‘চিঠি দিও। রোজ না হলেও অন্তত মাসে একটি’ কিংবা ‘হাতের লেখা খারাপ বলে দু:খিত’ কি আবেগময় কথা ছিল এক সময়। চিঠিকে শিল্পের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। একে সাহিত্য বললেও ভুল হবে না! অথচ এখন এটির প্রচলন নেই বললেই চলে। স্কুল জীবনে আমার অনেক কলমী বন্ধু ছিল, যাদের সাথে নিয়মিত চিঠিতে যোগাযোগ হতো। এখন আর চিঠির আবেদন নেই। তাই লেখাও হয়না। তবে রোজ লেখতে ইচ্ছে করে। প্রাপকের অভাবে সে চিঠিও লেখা হয় না। অথচ এ চিঠি নিয়ে কতো কবি, লেখক ও প্রবন্ধকার রচনা করেছেন কতো লেখা। মোবাইল ব্যবহারের পূর্বে চিঠিই ছিল একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম। স্বামী স্ত্রীকে, স্ত্রী স্বামীকে, সন্তান বাবাকে, বাবা সন্তানকে প্রয়োজন অপ্রয়োজনে চিঠি লিখতেন। চিঠির মাধ্যমে তারা যোগাযোগ করতেন নিজেদের মধ্যে। চিঠির অপেক্ষার অবসান হতো ডাক পিয়নের ডাকে। ডাক পিয়ন বাড়ি এসে প্রাপককে চিঠি পৌঁছে দিতেন। আর হাক দিতেন, চিঠি… চিঠি। আহ্ সেদিন! এ প্রজন্ম চিঠিই চেনে না। মোবাইল, ইন্টারনেট চিঠির স্থান দখল করেছে। মানুষের এখন চিঠি লেখার সময় নেই। যতোটুকু সময় পান ফেসবুক ও ইন্টারনেট নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। চিঠিও যে সাহিত্যের শাখা। তা এখনকার প্রজন্ম অনুধাবন করে না! এভাবেই হারিয়ে যাচ্ছে চিঠি ও চিঠির সাথে সংশ্লিষ্ট নানা উপকরণ।
আজ বিশ্ব চিঠি দিবস। নতুন প্রজন্ম চিঠির ব্যবহার না জানলেও, চিঠি লিখতে না পারলেও চিঠির সাথে পরিচিত হোক। চিঠি দিবসে এটাই হোক চাওয়া…