1. tayranabir2@gmail.com : Tayran Abir : Tayran Abir
  2. admin@munshiganjerbarta.com : admin :
  3. sayedhasanafran@gmail.com : Sayed Afran : Sayed Afran
  4. hmalamimkhan@gmail.com : al amin : al amin
  5. mdaniksheikh95@gmail.com : Anik Sheikh : Anik Sheikh
  6. asifbadhon43@gmail.com : Asif Badhan : Asif Badhan
  7. jharnacomputercenter@gmail.com : Barshan Mohammod : Barshan Mohammod
  8. muhammadsibgatullah360@gmail.com : muhammad sibgatullah : muhammad sibgatullah
  9. fjony7699@gmail.com : Forhat Jony : Forhat Jony
  10. lemonrep@gmail.com : Naser Lemon : Naser Lemon
  11. sheikhforidpolok4@gmail.com : Sheikh Polok : Sheikh Polok
  12. rhraju88994@gmail.com : Muhammad Raju : Muhammad Raju
  13. mdsejankhan12345@gmail.com : Md Sejan Khan : Md Sejan Khan
হিজল ফুল : জিয়া মাসুম - দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তা
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সিরাজদিখানে ভূয়া সনদ দিয়ে  গণশিক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা করছেন মসজিদের ইমাম মোঃ হারুনুর রশিদ ‎ আগামী বুধবার  মুন্সীগঞ্জে আসছেন বিশিষ্ট ইসলামি বক্তা মোস্তাক ফয়েজী শ্রীনগরে র‍্যাব পরিচয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি, চাকরিচ্যুত ২ সেনাসদস্যসহ গ্রেপ্তার ৭ টংগীবাড়ীতে চেতনা নাশক খাবার খাইয়ে মিশুক ছিনতাইয়ের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ১ শ্রীনগরে ৪০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার শ্রীনগরে সিরাত পাঠ ও ইসলামি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত সাহিত্যবার্তা: বৈচিত্র্যের এক অনন্য মিলনক্ষেত্র শ্রীনগরে নাতিকে আছাড় দেওয়ার অভিযোগে ভাইরাল হওয়া দাদী গ্রেপ্তার মুন্সিগঞ্জে নির্বাচনি দায়িত্বে প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধন মুন্সিগঞ্জে পুলিশের ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠন সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত

হিজল ফুল : জিয়া মাসুম

দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তা ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৫
  • ২৮৭ বার পঠিত
hijol fol
(অনু গল্প)
নীলু ফুল দিয়ে মালা গাঁথছে৷
বাড়ি থেকে সুই আর সুতা নিয়ে এসেছে৷ গাছ তলায় বসেই ফুল দিয়ে মালা গাঁথছে৷ ফুলগুলো কি সুন্দর! কি তুলতুলে নরম! খুব আস্তে করে ধরতে হয়৷ নীলু ওর ছোট হাত দিয়ে একেকটি ফুল আস্তে আস্তে করে ধরে সুন্দর মালা গেঁথে চলছে৷ পুকুর পারের এই হিজল গাছটিতে অনেক ফুল হয়৷ ফুলগুলি কি সুন্দর লতার মত ঝুলে থাকে৷ কি মিষ্টি গন্ধ! গাছ তলায় যখন ফুলগুলি বিছিয়ে থাকে তখন কি যে সুন্দর লাগে!
নীলুদের হিজল গাছের একটু দূরেই মাটির সড়কটি সোজা দক্ষিণ দিকে চলে গিয়েছে৷ সড়কের শেষ মাথায় পোড়াগঙ্গার খাল৷ পোড়াগঙ্গা খালের পাশেই নীলুদের জমি৷ নীলুর বাবা জমিতে ধান নিড়াচ্ছে৷ জৈষ্ঠের গরমে   প্রচুর পানির পিপাসা হয়৷ নীলু বাবার জন্যে পানি নিয়ে যায়৷ সাথে বাবার জন্য গাঁথা হিজল ফুলের মালাও নিয়ে যায়৷ দূর থেকে বাবাকে দেখেই বলে,
বাবা আমি তোমার জন্যি কল চাইপ্যা ঠান্ডা পানি নিয়া আইছি৷ আবিদ মিয়া মেয়ের ডাক শুনে ফিরে তাকায়৷
ইস্ গরমে শরিরটা ভিজে গেছে৷ গলাটাও শুকিয়ে গেছে৷ সে মেয়ের দিকে তাকিয়ে বলে, ঠিক সময়মত আইছত রে মা! আমার খুব পানির পিয়াস পাইছিলো৷ আশে পাশে কোন বাড়িও নাই যে একটু পানি খাইতে যামু৷ মেয়ে হেসে বলে, বাবা আমি জগ ভইরা ঠান্ডা পানি নিয়া আইছি৷ তুমি খাইয়া শীতল হও৷
নীলু বাবাকে টিনের গ্লাশে পানি ঢেলে দিলো৷ আবিদ মিয়া পানি খেয়ে পিপাসা মিটালো৷ আহ্ কি শান্তি!
গরমে দখিনা বাতাস আর ঠান্ডা পানি আল্লার নিয়ামত৷
এবার নীলু বাবার কাছে এসে বললো,
—বাবা চোখ বন্দ কর
—ক্যা?
—আহ্ ! করোই না
—এইজে করলাম
— এইবার হাত পাতো
—কিছু দিবি?
—আরে হাত পাতো না!
—হাত পাতলাম৷
আবিদ মিয়া চোখ খুলে দেখে একটি সুন্দর হিজল ফুলের মালা৷ কি নরম ফুলগুলি৷ মেয়ের কান্ড দেখে তার চোখে পানি এসে পরে৷ মেয়ের মত করে আবিদ মিয়াকে আর কেউ ভালোবাসে না৷ যেই মা তাকে অনেক ভালোবাসতো সেতো কয়েক বছর আগেই চলে গেছে৷ এখন এই নয় বছরের মেয়ে নীলুকেই তার মা মনে হয়৷ মায়ের মতই নীলু তাকে ভালোবাসে আবার শাসনও করে৷ মাঝে মধ্যে দু একটা বিড়ি ধরালে মেয়ে এসে ছুঁ মেরে হাত থেকে নিয়ে বলবে, বাবা এগুলা কি?
জানো না বিড়ি খাইলে কঠিন বেরাম হয়?আবিদ মিয়ার মাও তাই বলত৷
নীলু এবার বাবার কাছে এসে খুব সুন্দর করে হাসি দিয়ে বললো, বাবা আমার একটি কথা রাখবা?
— কি কতারে মা? আমি কি তোর কথা না রাইখা পারি?
—তাইলে তুমি আমারে হিজল ফুলের রঙের একখান ছোট শাড়ি কিননা দিবা৷ ঠিক হিজল ফুলের রঙের মতন৷
আবিদ মিয়া মেয়ে কথা শুনে হাসে৷ বলে ,আইচ্ছা হাটে গিয়া দেখুম এই রঙের শাড়ি আছে কিনা!
নীলু বাবার গলা জরিয়ে ধরে বলে, বাবা ভুলবানা কইলাম৷ মনে থাকে যেন৷
আবিদ মিয়া মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বলে , মনে থাকবে রে মা৷
মেয়ে শুনে ভিষন খুশি হয়৷ তার পর বাবা আমি যাই তুমি কাজ শেষ করে তারাতারি চলে এস বলে দৌড়ে বাড়ি চলে যেতে লাগলো৷
আবিদ মিয়া দাঁড়িয়ে মেয়ের চলে যাওয়া দেখছে৷ দখিনা বাতাসে শরীরটা জুড়িয়ে গেলো৷ আকাশে মেঘ করেছে৷ বৃষ্টি আসবে মনে হয়৷ নাহ্ বৃষ্টি আসার আগেই বাড়ি চলে যেতে হবে৷ দূর থেকে বাড়ির কাছের হিজল গাছটি দেখা যাচ্ছে৷ আবিদ মিয়া এক হাতে কাঁচি আরেক হাতে মেয়ের দেয়া হিজল ফুলের মালা নিয়ে বাড়ি ফিরছে…
Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর