1. tayranabir2@gmail.com : Tayran Abir : Tayran Abir
  2. admin@munshiganjerbarta.com : admin :
  3. sayedhasanafran@gmail.com : Sayed Afran : Sayed Afran
  4. hmalamimkhan@gmail.com : al amin : al amin
  5. mdaniksheikh95@gmail.com : Anik Sheikh : Anik Sheikh
  6. asifbadhon43@gmail.com : Asif Badhan : Asif Badhan
  7. jharnacomputercenter@gmail.com : Barshan Mohammod : Barshan Mohammod
  8. fjony7699@gmail.com : Forhat Jony : Forhat Jony
  9. lemonrep@gmail.com : Naser Lemon : Naser Lemon
  10. sheikhforidpolok4@gmail.com : Sheikh Polok : Sheikh Polok
  11. rhraju88994@gmail.com : Muhammad Raju : Muhammad Raju
  12. mdsejankhan12345@gmail.com : Md Sejan Khan : Md Sejan Khan
হিজল ফুল : জিয়া মাসুম - দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তা
মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
জেলা পুলিশের পরিদর্শক মোফাজ্জল হোসেনের বিদায় সংবর্ধনা লৌহজংয়ে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উপলক্ষে র‍্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত লৌহজংয়ের বেজগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি বরাদ্দের সুষম বণ্টনের দাবিতে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ ও মানববন্ধন  সিরাজদিখানে গণসংযোগে আসছেন নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আবদুল্লাহসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা কবি ও সংগঠক বাপ্পি সাহা : সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের এক নিবেদিত মুখ জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ব্যাপারে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না : মুন্সীগঞ্জ জেলা আমির আ জ ম রহুল কুদ্দুস সিরাজদিখানের কৃতি সন্তান রমজান আহমেদের অনন্য অর্জন, দ্বিতীয়বারের মতো সম্পন্ন করলেন ৫০ কিলোমিটার আল্ট্রা রান লৌহজংয়ে আগ্নিকান্ডে তিনটি বসতঘর ভস্মীভূত  মুন্সিগঞ্জে ৮৫ বছরের বৃদ্ধা দাদীর হেলিকপ্টারে চড়ার সখ পুরন করলো প্রবাসী নাতি  মুন্সিগঞ্জে সততার অনন্য ও উজ্জল দৃষ্টান্ত স্হাপন করলো চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী সমুদ্র সাহা 

হিজল ফুল : জিয়া মাসুম

দৈনিক মুন্সিগঞ্জের বার্তা ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৫
  • ১৭৪ বার পঠিত
hijol fol
(অনু গল্প)
নীলু ফুল দিয়ে মালা গাঁথছে৷
বাড়ি থেকে সুই আর সুতা নিয়ে এসেছে৷ গাছ তলায় বসেই ফুল দিয়ে মালা গাঁথছে৷ ফুলগুলো কি সুন্দর! কি তুলতুলে নরম! খুব আস্তে করে ধরতে হয়৷ নীলু ওর ছোট হাত দিয়ে একেকটি ফুল আস্তে আস্তে করে ধরে সুন্দর মালা গেঁথে চলছে৷ পুকুর পারের এই হিজল গাছটিতে অনেক ফুল হয়৷ ফুলগুলি কি সুন্দর লতার মত ঝুলে থাকে৷ কি মিষ্টি গন্ধ! গাছ তলায় যখন ফুলগুলি বিছিয়ে থাকে তখন কি যে সুন্দর লাগে!
নীলুদের হিজল গাছের একটু দূরেই মাটির সড়কটি সোজা দক্ষিণ দিকে চলে গিয়েছে৷ সড়কের শেষ মাথায় পোড়াগঙ্গার খাল৷ পোড়াগঙ্গা খালের পাশেই নীলুদের জমি৷ নীলুর বাবা জমিতে ধান নিড়াচ্ছে৷ জৈষ্ঠের গরমে   প্রচুর পানির পিপাসা হয়৷ নীলু বাবার জন্যে পানি নিয়ে যায়৷ সাথে বাবার জন্য গাঁথা হিজল ফুলের মালাও নিয়ে যায়৷ দূর থেকে বাবাকে দেখেই বলে,
বাবা আমি তোমার জন্যি কল চাইপ্যা ঠান্ডা পানি নিয়া আইছি৷ আবিদ মিয়া মেয়ের ডাক শুনে ফিরে তাকায়৷
ইস্ গরমে শরিরটা ভিজে গেছে৷ গলাটাও শুকিয়ে গেছে৷ সে মেয়ের দিকে তাকিয়ে বলে, ঠিক সময়মত আইছত রে মা! আমার খুব পানির পিয়াস পাইছিলো৷ আশে পাশে কোন বাড়িও নাই যে একটু পানি খাইতে যামু৷ মেয়ে হেসে বলে, বাবা আমি জগ ভইরা ঠান্ডা পানি নিয়া আইছি৷ তুমি খাইয়া শীতল হও৷
নীলু বাবাকে টিনের গ্লাশে পানি ঢেলে দিলো৷ আবিদ মিয়া পানি খেয়ে পিপাসা মিটালো৷ আহ্ কি শান্তি!
গরমে দখিনা বাতাস আর ঠান্ডা পানি আল্লার নিয়ামত৷
এবার নীলু বাবার কাছে এসে বললো,
—বাবা চোখ বন্দ কর
—ক্যা?
—আহ্ ! করোই না
—এইজে করলাম
— এইবার হাত পাতো
—কিছু দিবি?
—আরে হাত পাতো না!
—হাত পাতলাম৷
আবিদ মিয়া চোখ খুলে দেখে একটি সুন্দর হিজল ফুলের মালা৷ কি নরম ফুলগুলি৷ মেয়ের কান্ড দেখে তার চোখে পানি এসে পরে৷ মেয়ের মত করে আবিদ মিয়াকে আর কেউ ভালোবাসে না৷ যেই মা তাকে অনেক ভালোবাসতো সেতো কয়েক বছর আগেই চলে গেছে৷ এখন এই নয় বছরের মেয়ে নীলুকেই তার মা মনে হয়৷ মায়ের মতই নীলু তাকে ভালোবাসে আবার শাসনও করে৷ মাঝে মধ্যে দু একটা বিড়ি ধরালে মেয়ে এসে ছুঁ মেরে হাত থেকে নিয়ে বলবে, বাবা এগুলা কি?
জানো না বিড়ি খাইলে কঠিন বেরাম হয়?আবিদ মিয়ার মাও তাই বলত৷
নীলু এবার বাবার কাছে এসে খুব সুন্দর করে হাসি দিয়ে বললো, বাবা আমার একটি কথা রাখবা?
— কি কতারে মা? আমি কি তোর কথা না রাইখা পারি?
—তাইলে তুমি আমারে হিজল ফুলের রঙের একখান ছোট শাড়ি কিননা দিবা৷ ঠিক হিজল ফুলের রঙের মতন৷
আবিদ মিয়া মেয়ে কথা শুনে হাসে৷ বলে ,আইচ্ছা হাটে গিয়া দেখুম এই রঙের শাড়ি আছে কিনা!
নীলু বাবার গলা জরিয়ে ধরে বলে, বাবা ভুলবানা কইলাম৷ মনে থাকে যেন৷
আবিদ মিয়া মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বলে , মনে থাকবে রে মা৷
মেয়ে শুনে ভিষন খুশি হয়৷ তার পর বাবা আমি যাই তুমি কাজ শেষ করে তারাতারি চলে এস বলে দৌড়ে বাড়ি চলে যেতে লাগলো৷
আবিদ মিয়া দাঁড়িয়ে মেয়ের চলে যাওয়া দেখছে৷ দখিনা বাতাসে শরীরটা জুড়িয়ে গেলো৷ আকাশে মেঘ করেছে৷ বৃষ্টি আসবে মনে হয়৷ নাহ্ বৃষ্টি আসার আগেই বাড়ি চলে যেতে হবে৷ দূর থেকে বাড়ির কাছের হিজল গাছটি দেখা যাচ্ছে৷ আবিদ মিয়া এক হাতে কাঁচি আরেক হাতে মেয়ের দেয়া হিজল ফুলের মালা নিয়ে বাড়ি ফিরছে…
Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর