সারোয়ার শরিফ সোহান :
বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই আনন্দ, উচ্ছ্বাস আর উৎসবের আবহ। কিন্তু সেই আনন্দই যখন সহিংসতায় রূপ নেয়, তখন খেলার সৌন্দর্য ম্লান হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ভেন্যু বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১২ হাজার কিলোমিটার দূরে হলেও, সেই খেলার উত্তেজনাকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, মারামারি ও সহিংস ঘটনায় অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ।
অধিকাংশ ঘটনাই ঘটেছে প্রিয় দলকে সমর্থন করা নিয়ে তর্ক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য ও পাল্টা মন্তব্য, পতাকা টাঙানোকে কেন্দ্র করে বিরোধ, খেলা দেখা কিংবা জয় উদযাপনের সময়। কোথাও কথাকাটাকাটি রূপ নিয়েছে সংঘর্ষে, কোথাও আবার সামান্য বিরোধের জেরে প্রাণহানির মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।
বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে এমন সহিংসতার ঘটনা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে। বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলো বাংলাদেশে ফুটবল সমর্থকদের সংঘর্ষ, হামলা ও বিভিন্ন সহিংস ঘটনায় প্রাণহানির বিষয়টি তুলে ধরেছে।
এদিকে, ফাইনাল ম্যাচকে সামনে রেখে বড় পর্দায় খেলা প্রদর্শনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছে। জনসমাগমস্থলে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সড়ক অবরোধ না করা এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।
খেলাধুলা মানুষের মধ্যে আনন্দ, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য সৃষ্টি করার কথা। কিন্তু প্রিয় দলের প্রতি অন্ধ সমর্থন, অসহিষ্ণুতা এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা যখন সহিংসতার জন্ম দেয়, তখন তা শুধু একটি খেলাকেই নয়, পুরো সমাজকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।
বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যাবে, বিজয়ী দলও নির্ধারিত হবে। কিন্তু একটি পরিবারের হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জন আর কখনো ফিরে আসবে না। তাই খেলাকে খেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সচেতনতার মাধ্যমে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি রোধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।